উদীয়মান নেতাদের মনের আবর্জনাতেও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে: ডিএসসিসি প্রশাসক
Table of Contents
ঢাবি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম শুরু, সচেতনতার তাগিদ
Banglajibon.com – উদ য়ম ন ন ত দ র – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ, শাহবাগ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘিরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। শনিবার সকালে টিএসসিতে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান উদ্বোধনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে অতিথি, ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি র্যালি কলাভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নতুন স্থাপিত ডাস্টবিনের উদ্বোধন করা হয় এবং ক্যাম্পাসের অপরিচ্ছন্ন জায়গাগুলো পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব কেবল পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সিটি করপোরেশনের নয়। শিক্ষার্থী, পথচারী, দোকানি ও সংশ্লিষ্ট সবার আচরণও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উদীয়মান রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও আচরণেও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান।
“আজকে শুধু বাইরের আবর্জনা নয়, উদীয়মান নেতাদের মনের আবর্জনাও তারা যেভাবে উগলিয়ে দিচ্ছে, তাতেই পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দেশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাদেরও বলব ধৈর্য ধরতে।”
ক্যাম্পাসে ২০০ ডাস্টবিন
আবদুস সালাম জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ২০০টি ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন দেখা দিলে আরও ডাস্টবিন বসানোর কথাও বলেন তিনি। তবে অবকাঠামো বাড়ালেই পরিচ্ছন্নতার সমাধান হবে না—এ কথাও স্পষ্ট করেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
তার ভাষ্য, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে না পারলে ডাস্টবিন স্থাপনের সুফল মিলবে না। ক্যাম্পাসের রাস্তা, টিএসসির সামনের অংশ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যেন শিক্ষার্থীরা ময়লা না ফেলেন, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ছোট ছোট বর্জ্যও দ্রুত পরিবেশের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যকর অবস্থা নষ্ট করতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।
“কোনো ময়লা যাতে কোনো ছাত্র-ছাত্রী রাস্তায়, টিএসসির সামনে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে না ফেলে—সেই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে এর আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা বিশেষ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পথনির্দেশক ভূমিকা রেখেছেন উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনেও তাঁদের নেতৃত্ব প্রয়োজন।
হকার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব
টিএসসি, শাহবাগ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে ভাসমান হকারদের ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবদুস সালাম হকারদের একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে তাঁদের পরিচয়পত্রের আওতায় আনার প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মধ্যে হকার কার্যক্রম পরিচালিত হলে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা সহজ হতে পারে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মর্যাদা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। তাই স্থানটি নোংরা বা অব্যবস্থাপনায় পড়ুক, তা কাম্য নয়। শহীদ মিনার এলাকায় প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াত থাকে; ফলে সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সবার যৌথ দায়িত্ব।
“শহীদ মিনার আমাদের ঐতিহ্যের ও গর্বের জায়গা। কোনোভাবেই আমরা চাই না যে এই জায়গাটা অপরিচ্ছন্ন থাকুক।”
এক দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থাকার আহ্বান
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেই পরিচ্ছন্নতার চর্চা শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়; এর জন্য মানুষের ভেতরে দায়িত্ববোধ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
“পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। এটি কেউ করিয়ে দিতে পারে না, নিজের ভেতর থেকে বোধ তৈরি হতে হবে।”
উপাচার্য বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ এক দিনের কর্মসূচি হয়ে থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। বছরজুড়ে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস চালু রাখার প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর পলিথিন, টিস্যু বা বাদামের খোসার মতো সামান্য বর্জ্যও যেন পড়ে না থাকে, সে দায়িত্ব আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সবাইকে নিতে হবে।
পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস শুধু নান্দনিকতার বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার সঙ্গেও সম্পর্কিত। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা, অনুষ্ঠান শেষে জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো অভ্যাস নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে এ উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এ বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রক্টর ইসরাফিল রতন, ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অপরিষ্কার স্থানে কাজ শুরু করেন। নতুন ডাস্টবিন ব্যবহার, বর্জ্য ফেলার বিষয়ে সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি রূপ পাবে—এমন প্রত্যাশাই উঠে এসেছে আয়োজনে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is উদ য়ম ন ন ত দ র?
উদ য়ম ন ন ত দ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does উদ য়ম ন ন ত দ র matter?
উদ য়ম ন ন ত দ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
