Bangladesh

অগ্নিদগ্ধের প্রাথমিক চিকিৎসা জানা নেই ৬০% মানুষের

গণদগ্ধ ও আঘাতজনিত দুর্যোগের পর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার অভাব

অগ ন দগ ধ র প র – প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ মানুষ আনুষ্ঠানিক ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেনি বলে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে। বিশেষত রোগী পরিবহনের সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো প্রক্রিয়া জানেন না এর বেশি শতাংশ মানুষ। এখনও অনেকে ধারণা করেন শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়া ক্ষেত্রে টুথপেস্ট বা বরফ ব্যবহার করা উপযুক্ত। এ ধরনের জনগনের জ্ঞান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন সিএমএন ও বসু হেলথ রিসার্চ সেন্টারের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক ডা. বঙ্গ কমল বসু।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ানোর সাথে সাথে আন্তর্জাতিক প্রমাণিত এটিএলএস গাইডলাইনের ধারণা অধিকাংশ জনগনে অসম্পূর্ণ। অনুসন্ধান করা হয়েছে ঢাকা ও খুলনা সিটি করপোরেশন সহ মোংলা, সাভার এবং আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলগুলো থেকে। সংবাদ সম্মেলন খুলনা প্রেসক্লাব কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন অধ্যাপক ডা. বঙ্গ কমল বসু বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে সামাজিক সক্ষমতার অভাব দুর্যোগ মোকাবিলার বৃহৎ দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ কমিউনিটি প্রস্তুতি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার দিকে বেশি ঘাটতি প্রকাশ করে।

সরকারি প্রচারের অভাবে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন নম্বর ১০২ সম্পর্কে জনগণের ধারণা প্রায় শূন্য। বিশেষ করে কোনো ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম হাসপাতাল সংখ্যা ছাড়াও কম। বেসরকারি হাসপাতালের ১১.৪ শতাংশ ও সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ৫.৮ শতাংশ শুধুমাত্র একাধিক আঘাতজনিত ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া করতে সক্ষম।

গবেষকদের মতে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ক্ষতি ঘটছে রোগী স্থানান্তর এবং দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা হতে পারে। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সিবিপিডিপিইআর মডেল বাস্তবায়ন করতে হবে বলে সুপারিশ জানানো হয়। সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার মাধ্যমে সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থার পরিচালনা করার জন্য কমিটি গঠন করতে হবে।

সমন্বয়হীনতা এবং তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্বের কারণে রোগী স্থানান্তর ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টা জরুরি ইউনিট শক্তিশালী করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ ও অগ্নি মহড়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।

Leave a Comment