Bangladesh

নীলফামারীর সৈয়দপুর: রেলের জলাশয় ভরাট করে ‘প্লট বিক্রি’

নীলফামারীর সৈয়দপুর: রেলের জলাশয় ভরাট করে প্লট বিক্রি

ন লফ ম র র স য়দপ – নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শহরে রেলওয়ের প্রায় ৫০ শতকের একটি জলাশয় ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আশপাশের বহু ঘরবাড়ির পানি বৃষ্টি মৌসুমে ড্রেনের মাধ্যমে এই জলাশয়ে জমা হয়। বর্তমানে জমির অর্ধেকের বেশি অংশ পূরণ হয়েছে।

রেলওয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা জানান, জলাশয় ইজারা নিয়ে ভরাট কিংবা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা যায়, এই জলাশয় শহরের উত্তরে অবস্থিত গোলাহাট ১ নম্বর অবাঙালি ক্যাম্পের খানকা মসজিদের সামনে। এটি রেলওয়ে কোয়ার্টারে বসবাসকারীদের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিস এখান থেকে পানি ব্যবহার করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ জমি মাহমুদ আলী নামের এক ব্যক্তি মাছ চাষের জন্য ইজারা নিয়ে পূরণ করছেন। তিনি প্রতি শতক জমি প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার মূল্যে বিক্রি করছেন। এরই মধ্যে কয়েক হাজার মানুষ এই জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য অনুমতি নিয়েছেন। বর্তমানে অংশীদারদের কিছু অংশ আধা পাকা ও পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে।

‘ইজারার আড়ালে পূরো জলাশয় দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে। জলাশয় পূরণের প্রভাব শিগগির আমরা দেখতে পাব। বৃষ্টির পানি নামতে পারবে না, ঘরে-রাস্তায় পানি উঠবে।’

সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মোনতাকিম অভিযোগের ভিত্তিতে স্থান পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইজারা বাতিলের জন্য রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

মাহমুদ আলী প্লট করে বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘বৈধভাবে ইজারা নিয়ে নিজের প্রয়োজনে কিছু অংশ পূরণ করছি।’ বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে ইজারা বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে বলে জানান কানুনগো মহসিন আলী।

এ জলাশয়টি সম্পূর্ণ ভরাট হলে ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানি সংকটে বিপর্যয় তৈরি হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেলের এই সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। যাঁরা জমি ক্রয় করেছেন, তাঁদের প্রতিকার মেলেনি বলে জানান সংসদ সদস্যসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment