Bangladesh

স্বামী হত্যার বিচার চান না পরিবানু

স্বামী হত্যার বিচার চান না পরিবানু

স ব ম হত য র ব – রাজশাহী নগরের দড়িখড়বোনা এলাকায় আওয়ামী লীগের এক নেতার ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। গত বছরের ৬ মার্চ সেই সংঘর্ষে রিকশাচালক গোলাম হোসেন ছুরিকাহত হন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ মার্চ মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী পরিবানু বেগম বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ছয়জন আসামি নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদার, চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফাইজুর হক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক সহ আরও তিনজন রয়েছেন। পরিবানু নগর ছাড়তে বাধ্য হন এবং তিনি মাসখানেক পরে ফিরে আসেন।

তিনি বলেন, ‘স্বামী হত্যার বিচার চান না। মামলা চালাব না।’

পরিবানু জানান, এত দিন আসামিদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তাঁরা প্রকাশ্যে ঘুরছেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। গোলাম হোসেন থাকতেন দড়িখড়বোনা এলাকার রেললাইনের পাশে টিনশেড ঘরে। তাঁর মৃত্যুর পর এক মাস তিনি বাড়িতে থাকতে পারেননি।

গত ২৭ জুন সকালে রেলগেট এলাকায় পরিবানুর দেখা পাওয়া যায়। তিনি একটি খাবারের হোটেলে কাজ করেন। পরিবানু মাসখানেক নগরে ফিরে আসার পর তাঁর কণ্ঠে অন্য সুর হয়। তিনি বলেন, ‘যে কয়দিন ছিলাম কোনো স্বস্তি ছিল না। দিনে লোকজন আসত, রাতবিরাতেও অচেনা লোকজন বাড়িতে ডাকাডাকি করত। তারা বলত, মামলাটা তাদের মতো করে চালাতে হবে। তাই শহর থেকে চলে গিয়েছিলাম।’

মামুন-অর-রশিদ পরিবানুর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলা চালাবার জন্য ডেকে পাঠান। তিনি চেম্বারে গিয়ে দেখা করেন এবং পরিবানু বলেন, ‘তিনি আমাকে বললেন, “তুমি কি মামলা চালাতে পারবা? না চালালে কিছু টাকা নিয়ে আপস করে নাও।” আমি কিছুদিন সময় নিই। পরে আবার জানাই, মামলা চালাব না। তখন আমাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।’

মামুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আপনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে প্রশ্নটা করলেন। আইন আইনের গতিতেই চলবে।’ বোয়ালিয়া থানার ওসি মাছুমা মুস্তারী জানান, মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে। আসামিদের গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে ওসি বলেন, ‘আসামিদের পাওয়া যায় না।’

Leave a Comment