চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকার বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় জীববৈচিত্র্য
চ য়ন দ য় র দ য় – কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় অবৈধভাবে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে দেশীয় মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে। এই নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে নদী ও খাল থেকে বিভিন্ন জলজ প্রাণী ধরা হচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্যের ধ্বংসে সহায়তা করছে। কারেন্ট জালের উপর ভিত্তি করে অনেক ক্ষেত্রে ছোট থেকে বড় মাছ পর্যন্ত সাপ, ব্যাঙ ও অন্যান্য প্রাণী ধরা হচ্ছে। চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও উপজেলার সর্বত্র এগুলো বেড়ে চলেছে। বর্ষা হলে নতুন পানি আসার সময় মৎস্যজীবীদের স্থানীয় খাল-বিলে মাছ শিকার করার জন্য সাধারণত ছাই ও ঠেলা জাল ব্যবহার করা হত। কিন্তু এখন চায়না দুয়ারি জাল বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে মাছের প্রজাতি ক্রমাগত কমে আসছে।
নিষিদ্ধ জালের দুর্দান্ত প্রভাব
হোসেনপুরের খাল-বিল আর অন্যান্য জলপানি অঞ্চলগুলো বর্তমানে চায়না দুয়ারি জালের কবলে। আগে মাছের জন্য প্রাকৃতিক এলাকা সুবিধাজনক ছিল বলে জানা যায়, কিন্তু এখন অবৈধ শিকারীদের প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। কিশোরগঞ্জ মৎস্য ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ছাই, পলো ও ঠেলা জালের পরিবর্তে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি মাছ সহ বিভিন্ন প্রাণীকে বংশ নাশ করছে।’ তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে মানুষের সচেতনতার অভাব আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। চায়না দুয়ারি জালে প্রায় আড়াইশ প্রজাতির মাছ ছিল, কিন্তু এখন তার অনেক প্রজাতি চোখে পড়ে না।
অবৈধ শিকারীদের প্রতিক্রিয়া
অবৈধভাবে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করা এক ব্যক্তি জানান, বর্ষা মৌসুমে নতুন পানি আসার সময় সর্বাধিক শিকার হয়। এ জাল দিয়ে ছোট থেকে বড় মাছ একসাথে ধরা হয়, যার ফলে মাছের বংশ বৃদ্ধির দিকে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, কয়েক দশক আগে এই অঞ্চলে মিঠাপানির প্রায় আড়াইশ প্রজাতির মাছ ছিল, কিন্তু এখন সেগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি সৃষ্টি করছে ক্রমবর্ধমান প্রাণী ক্ষতি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষীয়মান ক্ষতি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিকুন নাহার বলেন, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঙ্গে আলোচনা করে শিগগির অভিযান পরিচালনা করা হবে। হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, ‘চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার বন্ধ করতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। আরও কিছু সমন্বয় করে শিগগির অভিযান পরিচালনা করব।’ তিনি বলেন, এই অভিযানে প্রাণী রক্ষার উদ্দেশ্যে নিরাপত্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে। কিশোরগঞ্জ �
