Bangladesh

কুড়িগ্রামে নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি প্লাবিত, বসতভিটায় ঢুকছে পানি

কুড়িগ্রামে নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি প্লাবিত, বসতভিটায় ঢুকছে পানি

ক ড় গ র ম ন ম – কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদী অতিক্রম করে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে কৃষিজমি জল দ্বারা আচ্ছাদিত হয়েছে। নাগেশ্বরী উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় কিছু বসতভিটার জল ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ঘোষণা করেছে যে আগামী ৭২ ঘণ্টায় দুধকুমার, তিস্তা ও ধরলা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে সকালে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। দিনের প্রায় মাঝে পানির উচ্চতা ২৩ সেন্টিমিটার থেকে ২৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিস্তার পানি রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে প্রবেশ করেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি উচ্চতা কমতে শুরু করে। ব্রহ্মপুত্রের পানি সব পয়েন্টে বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী আগামী দুদিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ ও উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত ঘটবে।

আজ কুড়িগ্রামে দুধকুমার অববাহিকার পাটেশ্বরীতে সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য বাড়তি সতর্কতা ও পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্যসেবা ইউনিট।

অতিরিক্ত পানি দ্বারা কৃষিজমি বাচানোর জন্য খেত থেকে দ্রুত পরিপক্ব সবজি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। সেচ, সার ও বালাইনাশক না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সময় জমির আইল উঁচু করে অতিরিক্ত পানি সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘জেলায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এখনো (সোমবার বিকেল) বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে। উদ্ধারকারী নৌকা, শুকনো খাবার ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।’

Leave a Comment