মাদারীপুর শহরে জলাধারগুলি পুকুর ভরাটে পরিবর্তিত হচ্ছে
ম দ র প র শহর – মাদারীপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে পুকুর ও ডোবা প্রতিদিন কমে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের মূল কারণ হল প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রভাবশালীদের সরাসরি দখল। ফলস্বরুপ পরিবেশের সামান্যতা হারিয়ে যাচ্ছে এবং অগ্নিকাণ্ডে পানি সরবরাহের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা ভবিষ্যৎ আগুন নিয়ন্ত্রণে পানির অভাব হতে পারে এ আশঙ্কা জন্ম দিয়েছেন।
পুকুর হারিয়ে শহরে স্থাপনা বৃদ্ধি
গত দুই শতকের মধ্যে মাদারীপুর শহরে পুকুর ও ডোবা সংখ্যা অর্ধেকের কমে আসছে। শহরে ইউরোপীয় প্রভাব বৃদ্ধির সাথে সাথে জমি কেনার জন্য ক্ষেত্রে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু ব্যবসায়ী পুকুর ভরাট করে যথেষ্ট দামে জমি বিক্রি করছেন। তার পর সেখানে বাণিজ্যিক কেন্দ্র কিংবা ভবন নির্মাণ করে শহরে অবক্ষয় ঘটছে।
“পুরান বাজার হল মাদারীপুর জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস যথাসময়ে আসলেও পানির সরবরাহ কম থাকায় নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।”
পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত কথা বলেছেন মাদারীপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ জেসমিন আকতার বানু। তিনি বলেন, জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় পুকুর ভরাট ঘটছে। অবশিষ্ট পুকুরগুলি সংরক্ষণের জন্য প্রশাসন দায়িত্ব পালন করতে হবে।
“এখন কাউকে পুকুর বা জলাশয় ভরাট করতে দেওয়া হবে না। শহরে যে কয়টি পুকুর আছে তা বাঁচিয়ে রাখা উচিত।”
মাদারীপুর শহরে কিছুদিন আগে পুরান বাজারে আগুন লেগে ১৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছিল। পানি স্বল্পতা থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশি সময় লেগেছিল। শহরের পানির উৎস কমে আসার কারণে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছিল না।
“৪-৫ বছর আগে লঞ্চঘাট এলাকায় একটি শতাব্দীর পুরোনো পুকুর ভরাটের সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন এমপি। ড্রেজারের মধ্যে বালু দিয়ে ভরাট করার পর অবশেষে আমরা বিষয়টি বন্ধ করে দিয়েছিলাম।”
