Bangladesh

নেত্রকোনা: বিএডিসির ভেজাল বীজে খেসারত দিচ্ছেন কৃষক

নেত্রকোনা: বিএডিসির ভেজাল বীজে খেসারত দিচ্ছেন কৃষক

ন ত রক ন – নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওরপাড়ে অবস্থিত কৃষক গোলাপ মিয়া বিএডিসির ব্রি-৮৮ ধানের বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেছিলেন। তবে ভালো ফলনের আশা ছাড়া এখন তাঁর জমিতে একই ধরনের ধান বৃদ্ধি পেয়েছে না, বরং তিন-চার ধরনের ধান হয়েছে।

বিএডিসি থেকে ক্রয় করা ভেজাল বীজের কারণে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং এলাকার কৃষক তৌহিদ মিয়া, রোয়াইলবাড়ী এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম এবং খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া এলাকার কৃষক নয়ন মিয়া।

গোলাপ মিয়া বলেন, ‘ভেজাল বীজের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। প্রকৃত ব্রি-৮৮ ধান বৃষ্টি শুরুর আগেই পেকে গিয়েছিল। সঠিক বীজ দিলে পানি আসার আগেই ধান ঘরে তুলতে পারতাম।’

সম্প্রতি এই কৃষক জেলা বিএডিসি কার্যালয়ের বীজ শাখায় অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ভেজাল বীজের কারণে ধানের মান ভালো না হওয়ায় বিক্রি করতে হয়েছে কম দামে।

একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের গলগলি মল্লিকপুর গ্রামে অবস্থিত কৃষক অজয় কান্তি সরকার। তিনি বলেন, ‘বিএডিসির ব্রি-৮৮ ধানের বীজ কিনে ১৩ একর জমিতে রোপণ করেছিলাম। বীজে ভেজাল থাকায় কয়েক ধরনের ধান হয়েছে। যেগুলো আগে পেকেছে সেগুলো শিষ থেকে খসে মাটিতে পড়েছে। বাকিগুলো পাকার সময় পানিতে তলিয়েছে। এতে বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

বৃষ্টি আর ঢলের পানিতে ধান তলিয়ে গেছে

বারহাট্টা উপজেলার আশিয়ল গ্রামে অবস্থিত কৃষক ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘ব্রি-৮৮ ধানের গাছ মূলত অনেকটা উঁচু হয়। এই কারণে সামান্য জলাবদ্ধতায় এই ধানের কোনো সমস্যা হয় না। অন্য ধানের গাছ ছোট হওয়ায় সামান্য পানিতে তলিয়ে যায়। এবার বিএডিসির ভেজাল বীজের কারণে মিশ্র ধরনের ছোট ধানগাছ হওয়ায় সামান্য পানিতেই তলিয়ে গেছে। বাড়ির সামনে এক একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। বিএডিসির ভেজাল বীজের কারণে ধান তলিয়ে গেছে।’

Leave a Comment