বৈচিত্র্যকে যারা বিভাজনের হাতিয়ার বানাতে চায়, তারা দেশবিরোধী
ব চ ত র যক য র – রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক উৎসবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের ভাষা, ধর্ম, লিঙ্গ ও জাতিসত্তার বৈচিত্র্য দেশের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি যেমন বৈচিত্র্য বিভাজনের কারণ হতে পারে না, সেই সাথে তিনি তার মূল্যবান অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিঝু, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিষু ও চাংক্রান পুনর্মিলনী উৎসব
সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে দেখা যায়। মন্ত্রী বলেন, দেশের সম্প্রদায়গুলো প্রতিটি ভাষাগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী নিশ্চিত হওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভাষা, বর্ণ, ধর্ম বা জাতিসত্তার পার্থক্য দেশের সম্প্রসারণে সহায়তা করে।
তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্য দেখা যায় সম্প্রদায়গুলোর সমান অবস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে। তিনি যে কোনো নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী হিসেবে গৃহীত হওয়া উচিত বলে অনুরোধ করেন।
স্বাধীনতার পর জাতীয় পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের সম্প্রদায়গুলোর সমান মর্যাদা বিশ্বাসের মাধ্যমে সমাধান পেয়েছিলেন। মন্ত্রী বলেন, পিছিয়ে থাকা জাতিগোষ্ঠীগুলোকে মূলধারার সাথে যুক্ত করতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও কোটাব্যবস্থা প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখ করেন, যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার মানুষ একত্রে কাজ করেছে।
যে সমাজ যত বেশি বৈচিত্র্য ধারণ করতে পারে, সেই সমাজ তত বেশি শক্তিশালী হয়। তিনি এতে মেধাই একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে বলে অনুরোধ করেন।
বিএনপির রাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী, যারা নাগরিক সমানতা বানাতে চায়। তিনি জানান যে, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষদের সুযোগ নিশ্চিত করতে আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকার সহায়তা করবে। এই দর্শনের ভিত্তিতে পার্বত্য অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের সম্মানে আমরা বিশ্বাস করি।
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, মাধবী মারমা ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। সভাপতি করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মেজর (অব.) তপন বিকাশ চাকমা। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
