Islam

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুয়াজ্জিন ছিলেন যিনি

Foto : James Anderson - banglajibon.com

ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হিসাবে পরিচিত ছিলেন হজরত বেলাল ইবনে রাবাহ (রা)

Banglajibon.com – ইসল ম র ইত হ স প – মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথম হিজরিতে আজান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে নামাজের জন্য মানুষকে ডাকার রীতি চালু করা হয়। এ কাজে নবীজি (সা.) সর্বপ্রথম এক কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবিকে পছন্দ করেন। সেই সাহাবি ছিলেন হজরত বেলাল ইবনে রাবাহ (রা)। তাঁর কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হতো অসামান্য বলিষ্ঠ ও সুমধুর আজান। মদিনার মানুষ প্রতিদিন তাঁর আজান শুনতে অপেক্ষা করতেন অধীর আগ্রহে।

উষালগ্নে ইমানের ঘোষণা দেওয়ার মূল কর্তৃত্ব ছিল তাঁর

বংশসূত্রে হাবশি (আবিসিনিয়া বা বর্তমান ইথিওপিয়া) ও মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন বেলাল (রা)। ইসলামের উষালগ্নে প্রথম সাতজন সাহাবির অন্যতম ছিলেন তিনি। তিনি ইমানের প্রকাশ্য ঘোষণা করতেন দাবী করে তার বিশ্বস্ত কণ্ঠস্বর দিয়ে। তাঁর আধুনিক কুরাইশ নেতারা তাঁকে নিষ্ঠুর মনিব উমাইয়া ইবনে খালাফ হতে সহ্য করতেন না।

মক্কার তপ্ত বালুকাধামে বেলালকে উত্তপ্ত দুপুরে শুইয়ে রাখা হতো ও তাঁর বুকে ভারী পাথর চাপিয়ে দেওয়া হতো। চাবুকের আঘাতে শরীর রক্তাক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ঠোঁট থেকে ছিল কেবল একটি ধ্বনি—‘আহাদ, আহাদ’ (আল্লাহ এক, আল্লাহ এক)। এ অবিচল ইমান দেখে খলিফা হজরত আবু বকর (রা) বিপুল অর্থে উমাইয়াকে কিনে নেন। দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে তাঁকে চিরতরে মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তির পর বেলাল (রা) নবীজি (সা.)-এর সার্বিক সাহচর্য গ্রহণ করেন। তাঁকে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা) এর সঙ্গে দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব করার জন্য রাসুল (সা.) তাঁকে আবদ্ধ করেন। নবিজি (সা.)-এর পর মদিনার মানুষ তাঁকে তাঁর স্মৃতি জাগিয়ে রাখতেন। আবেগে বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েন হজরত উমর (রা) বেলালের আজান শুনে।

‘আবু বকর আমাদের সাইয়েদ এবং তিনি আমাদের আরেক সাইয়েদকে মুক্ত করেছেন।’

৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে নবীজি (সা.)-এর মৃত্যুর দুই বছর পর এক রাতে হজরত বেলাল (রা) প্রিয় নবীকে স্বপ্নে দেখেন। সেদিন দামেস্ক থেকে মদিনায় তিনি পুনরায় ছুটে আসেন। নবীজির দুই নাতি হজরত হাসান ও হুসাইন (রা) তাঁকে ফজরের আজান দিতে

Leave a Comment