Sports

বিশ্বকাপবিদ্বেষী না হয়ে উপভোগের আহ্বান

বিশ্বকাপ পর্বে আমেরিকান সমর্থকদের আহ্বান

ব শ বক পব দ ব ষ – নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে বিশ্বকাপের আমেজ খুব কম পরিমাণে পাওয়া গেল। ফুটবল বিশ্বকাপের মতো এত বড় উৎসবে শহরে কেবল এক-দুইটা ব্যানার ও ব্যাকড্রপ চোখে পড়ল। একটি ব্যানারে স্ট্যাচু অব লিবার্টির পায়ে বলের চিহ্ন দেখা যায়। এর পাশাপাশি লেখা আছে, “আই অ্যাম অ্যাট দ্য হোম অব দ্য ফাইনাল”।

নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে পাঁচটি গ্রুপপর্বের ম্যাচ সহ তিনটি নকআউট পর্বের ম্যাচ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ফাইনালও অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নিউইয়র্ক বন্দর কর্তৃপক্ষ কিছু সামান্য ব্যবস্থা নিয়েছিল যেন হাজারো অতিথি স্বাগত জানাতে পারে। তবে সেই আগ্রহ প্রায় নেই মনে হয়।

আয়োজনের মূল্য কম নয় বলে বিশ্বকাপকে কটসে দিলেন

বিশ্বকাপ আয়োজনের সমালোচনা আগে থেকেই হচ্ছে। কিন্তু এবার এটা বেশি প্রবল। বলা হচ্ছে, এটা ধনীদের ও করপোরেটদের বিশ্বকাপ। এমনি এমনি এটা বিশ্বকাপের মূল সুরের সঙ্গে মিল নেই। অনেকে ফিফার তথাকথিত “ডায়নামিক টিকিটিং” ব্যবস্থাকে “প্রতারণামূলক টিকিটিং” বলেছেন। এ ব্যবস্থা বিশেষ করে সমর্থকদের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি দাম দিতে বাধ্য করেছে।

“বিশ্বকাপকে ঘৃণা করার দলে যোগ দেবেন না” শিরোনামে বিল সাপোরিটোর লেখায় বলা হয়েছে, “এবার সমালোচনার খোরাক আরও বেশি। শুরুতেই আছে ফিফার চড়া দামে টিকিট বিক্রির চেষ্টা। কেপ ভার্দে বনাম সৌদি আরব কিংবা জর্ডান বনাম আলজেরিয়ার মতো ম্যাচের টিকিটও বিশ্বকাপের মহারণের মতো দামে বিক্রি হয়েছে। হোটেল কক্ষ খালি পড়ে থাকার বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে।”

ফিফার পরিকল্পনায় প্রায় সব টিকিট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু উচ্চমূল্যের দরুন কে কোথায় বসবে তা প্রশ্ন বাকি রইল। স্টেডিয়ামে ফিট হয়ে বসা ক্ষমতা খুব কম বলে মনে হয়।

বিশ্বকাপের জন্য কলকাতার বিখ্যাত ক্রীড়া লিখিয়ে গৌতম ভট্টাচার্য লিখেছেন যে সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন পোস্ট নেই যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিও বার্তায় বলা হচ্ছে বিশ্বকাপ কী করে ভালো করে দেখবেন। ট্রাম্প বলছেন, “১৫টা উপায় বাতলে দিচ্ছি। এভাবে আপনি বিশ্বকাপ আরও ভালো করে দেখতে পারেন, আরও ভালো এনজয় করতে পারেন। আমার দেশে আসুন।”

যদিও ব্রাজিল-কাতারের মতো প্রতিটি পর্যায়ে সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছিল, তাদের বলেছিল, “আসুন এনজয় করুন, দুই হাতে আলিঙ্গন করুন আমাদের বিশ্বকাপ।”

আমেরিকানরা অবশেষে বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে শিখেছেন। কেননা ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী কলম্বিয়াকে হারিয়েছিল। এরপর বিশ্বকাপের আয়োজনে পুরো টুর্নামেন্ট উচ্ছ্বাসে বিস্ফোরিত হয়েছিল। অতীতে সমালোচকেরা ভাবতেন এমন “একঘেয়ে” খেলায় আমেরিকানরা কেউ আগ্রহ দেখাবে না। কিন্তু নিউজার্সির জায়ান্টস স্টেডিয়ামে ইতালি ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচটি আরও উচ্ছ্বাসময় হয়েছিল।

Leave a Comment