পঞ্চগড় সীমান্তে আটক হয়ে পড়েছেন ১০ নাগরিক, আধার কার্ড নিয়ে গেছে বিএসএফ
পঞ চগড় স ম ন ত ৬০ – পঞ্চগড় সীমান্তের সামনে প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে আটক হয়ে পড়েছেন শামসুল ও তাঁর পরিবার। তিনি দীর্ঘদিন ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সবজি ব্যবসা করেন এবং সেখানে বসবাস করেন। কয়েক দিন আগে তাঁদের ভারতীয় পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করে তাঁদের বড়বাড়ি সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়।
গত শুক্রবার ভোরে শামসুল ও তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। তখন বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। আটক হওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে আধার কার্ড, মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ নিয়ে নেওয়া হয়। এখন তাদের কাছে পরিচয়পত্র নেই, স্বজনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য মোবাইল ফোনও নেই।
সীমান্তে পড়ে থাকা শামসুলের পরিবার খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কিছু খাবার এবং পানি দেওয়া হয় তাদের প্রতি সময়, যদিও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিএসএফ এই সীমান্তে নিয়োজিত সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিশাল পরিমাণে বৃষ্টিতে ভিজে এবং রোদে পুড়ে আছেন।
“তাদের যদি ভারতীয় আধার কার্ড থাকে, তাহলে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা কেন করা হচ্ছে? তারা যদি ভারতের নাগরিক হয়, তাহলে ভারতকেই তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।”
“আমরা জানতে পেরেছি শামসুল ও তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তান ভারতের নাগরিক। তাহলে তাদের সীমান্তে ফেলে রাখা মানবিক নয়। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।”
বর্তমানে শামসুলের পরিবারসহ মোট ১০ জন নাগরিক সীমান্তের শূন্যরেখাসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। সীমান্তে যেকোনো পুশ ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি টহল ও নজরদারি কাজ জোরদার করেছে। তবে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। �
