জাপান ভারতীয় আমের আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে
ভ রত য় আম আমদ ন ন – ভারতীয় আম আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে জাপানের পক্ষে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা ভারতের উত্তর প্রদেশের রহমানপুরে অবস্থিত ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট কেন্দ্রে পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, তারা প্রক্রিয়ায় কারিগরি ত্রুটি খুঁজে পেয়েছিলেন, যেহেতু সেই কেন্দ্রটি বিশ্বাসযোগ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া পালন করেনি। এই অনুমোদন ছিল ভারতীয় আম আমদানি করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদানের জন্য স্থাপিত চুক্তির অংশ।
এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ধরনের ক্ষতি ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে প্রিমিয়াম মানের আলফনসো, কেসর ও ল্যাংড়া আম উৎপাদনকারীদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। জাপানের বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় আম আমদানি করার জন্য অনুমোদন পাওয়া যাবে না যদি সেই আমের কোনো স্বাস্থ্য সনদ না থাকে। এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের পর আর কোনো প্রিমিয়াম মানের আম জাপানে আমদানি করা হবে না বলে ঘোষণা করা হয়।
প্রক্রিয়া কি কাজ করছে?
ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়াটি রাসায়নিক মুক্ত একটি সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে নিয়ন্ত্রিত গরম ও আর্দ্র বাতাস ব্যবহার করে ফ্রুট ফ্লাই ও তাদের লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এই পদ্ধতি রপ্তানি চুক্তি অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। কিন্তু জাপানের পরিদর্শনে এটি প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে। তারা এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী আম আমদানি করা হয়েছে কিনা তা নির্ভুল পরিচয় পেতে চাইছেন।
গত প্রায় ২০ বছরের মধ্যে এটি প্রথম সময় হয়েছে যখন ভারতীয় আম আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। আগে টোকিও ফ্রুট ফ্লাই সংক্রমণের আশঙ্কায় আম আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারত শোধন প্রক্রিয়া জোরদার করে এবং ২০০৬ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়া অনুমোদন পেতে চাইছে না বলে জাপানি প্রশাসন ঘোষণা করেছে।
জাপানের মন্ত্রণালয় প্রতি বছর ভারতে অবস্থিত শোধন কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে। কিন্তু এই পরিদর্শনে তারা ভারতীয় আম আমদানি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে কিনা তা সনাক্ত করতে পারেনি। এই বিশ্বাসযোগ্যতা সংকট তাদের পক্ষে অনুমোদনের জন্য বড় বাধা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ভারতীয় আম আমদানি প্রক্রিয়া দ্বারা স্বাস্থ্য সনদ বিপর্যয় হওয়া আশঙ্কা করছেন।
আমদানি নিষিদ্ধ করার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারতের পক্ষ থেকে আরও বেশি জোরদার পরীক্ষা প্রক্রিয়া ব্যবস্থা জাপানের কাছে চাওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে চাষিরা বিশেষ করে প্রিমিয়াম মানের আম উৎপাদন কমিয়ে পড়বে। কিন্তু অন্যান্য বিশ্বাসযোগ্য আম আমদানি করার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন হবে কিনা তা এখন অপেক্ষা
