পুকুরে মরে ভেসে উঠেছে সব মাছ, দিশেহারা মাছচাষি
প ক র মর ভ স উঠ – পুকুরে মরে ভেসে উঠেছে সব মাছ এবং মাছ চাষির সম্পত্তি ধ্বংস হয়ে গেছে। নাটোরের বড়াইগ্রামে আনোয়ার হোসেন নামে এক কৃষক পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। অনুমান হচ্ছে এই ঘটনার কারণে তাঁর প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুকুরে রুই, চিতল, কাতল এবং সিলভার কার্প সহ ১০ থেকে ১২ প্রজাতির মাছ ছাড়া হয়েছে।
মাছচাষির জীবন বিপন্ন হয়েছে
আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি দুই বছর আগে কুমরুল পূর্বপাড়া গ্রামে পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। তাঁর প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ সেখানে পুঁতে ছিল। এই পুকুর কুমরুল মালিক আবু হেনা মোস্তফা কামালের জমি। তিনি বলেন, আনোয়ারকে তাঁর জমির পাঁচ বিঘার পুকুর লিজ দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তাঁর মাছগুলো মরে গেছে এবং সেই কারণে পুকুর ইজারাদারের লোকজন মাছ তুলে গর্ত করে পুঁতে ফেলছে।
পুকুরে মরে ভেসে উঠেছে সব মাছ বলে খবর পেয়ে আনোয়ার হোসেন সকালে পুকুরপাড়ে গেলেন। সেখানে তিনি দেখেন পানিতে মাছগুলো ভেসে আছে। মরা মাছের দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র বলেন, বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলার ঘটনা গত ঈদুল ফিতরের দিন রাতেও ঘটেছিল। সেই সময় পুকুরের মাছগুলো সব মরে যায়। তখন ক্ষতি প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকার মাত্রা ছিল।
স্থানীয় আশঙ্কা ও বিষয়টি গুরুতর
বিষাক্ত মাছ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ আছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, কে বা কারা এই কাজ করছে তা খুঁজে বার করা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, আমি ও তাঁর সাথে কোনো শত্রুতা নেই। তবে মাছ চাষির কাছে আন্তরিক সহায়তা চাওয়া হচ্ছে যাতে তাঁর আর্থিক ক্ষতি কমানো যায়।
পুকুরে মরে ভেসে উঠেছে সব মাছের সংঘটন ক্ষমতার মালিক হিসাবে আবু হেনা মোস্তফা কামাল ব্যাপারটি স্থানীয় মানুষের কাছে জানান। তিনি বলেন, আনোয়ারের প্রতি আমার কোনো বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়েছে সেটা গুরুতর বিষয়। এতে কোনো পরিচয় বা প্রমাণ নেই।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুব হোসেন বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, মাছ নিধনের কারণ খুঁজে বার করা হচ্ছে। কিছু সন্দেহ হচ্ছে যে পুকুরের জমির মালিক কারো স্বার্থে এই কাজ করা হয়েছে।
পুকুরে মরে ভেসে উঠেছে সব মাছের ঘটনার প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় মানুষ বলেন, এই বিষয়ে কোনো তদন্ত চালু করা হয়নি। সাথে সাথে এই ঘটনার কারণ খুঁজে বার করার জন্য মাছ চাষির সাথে কথা বলা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিষাক্ত মাছ তৈরি করা হয়েছে যাতে তাঁর আর্থিক ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এখনও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়
