Lifestyle

যে দুই দ্বীপে বিড়ালের সংখ্যা মানুষের চেয়ে বেশি

1_3yVrWT3
Foto : Betty Thomas - banglajibon.com
Table of Contents
  1. ভূমধ্যসাগরের দুই দ্বীপে মানুষের চেয়ে বিড়ালের দখল বেশি
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ভূমধ্যসাগরের দুই দ্বীপে মানুষের চেয়ে বিড়ালের দখল বেশি

Banglajibon.com – য দ ই দ ব প ব – ভূমধ্যসাগরের কিছু দ্বীপে ভ্রমণে গেলে পথঘাট, পুরোনো স্থাপনা কিংবা সমুদ্রের দৃশ্যের পাশাপাশি আরেক বাসিন্দার উপস্থিতি চোখে পড়বে সবচেয়ে বেশি—বিড়াল। সাইপ্রাস ও স্পেনের নুয়েভা তাবারকা দ্বীপে এই উপস্থিতি শুধু দৃশ্যমান নয়, সংখ্যার হিসাবেও মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। একটিতে লাখ লাখ বেওয়ারিশ বিড়ালের চাপ, অন্যটিতে অল্পসংখ্যক স্থায়ী বাসিন্দার সঙ্গে সমানতালে বেড়ে ওঠা দ্বিগুণ বিড়ালের দল।

সাইপ্রাসে বিড়ালের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি

ভূমধ্যসাগরের পূর্ব অংশের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে বেওয়ারিশ বিড়ালের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা ১০ লাখেরও কম হওয়ায় দ্বীপজুড়ে মানুষের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বিড়াল থাকার ধারণা তৈরি হয়েছে। এ সংখ্যা এত বড় যে বিড়ালের মোট হিসাব নিয়ে সরকারি পর্যায়েও আলোচনা ও গণনার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

ফ্রন্টিয়ার্স ইন অ্যানিমেল সায়েন্স সাময়িকীতে জেমি এল ডিলিউ ও হ্যারি একম্যানের প্রকাশিত গবেষণায় সাইপ্রাসের পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসে। গবেষণার জন্য সাইপ্রাস, গ্রিস ও পর্তুগালের ৪৪ জন পেশাজীবী এবং স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে কথা বলা হয়। তাঁদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি, সীমিত সরকারি অর্থায়ন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এই সংকটকে দীর্ঘদিন ধরে জটিল করে তুলেছে।

অনুপাতের বিচারে সাইপ্রাসে বেওয়ারিশ বিড়ালের হার বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর একটি। তবে মানুষের সঙ্গে এই প্রাণীর সম্পর্ক দ্বীপটিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা প্রায় ৯ হাজার ৫০০ বছর পুরোনো একটি মানবকঙ্কালের পাশে বিড়ালের হাড় খুঁজে পেয়েছেন। সেই আবিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে, সাইপ্রাসে মানুষ ও বিড়ালের সহাবস্থান বহু সহস্রাব্দের পুরোনো।

দ্বীপটির বিড়ালকেন্দ্রিক ইতিহাসে লোককথারও জায়গা আছে। প্রচলিত গল্পে বলা হয়, চতুর্থ শতকে সেন্ট হেলেন সাপের উপদ্রব মোকাবিলায় দুই জাহাজভর্তি বিড়াল নিয়ে সাইপ্রাসে এসেছিলেন। ওই ঘটনার সঙ্গে দ্বীপে বিড়ালের বিস্তারের গল্প জড়িয়ে আছে। ইতিহাস ও কিংবদন্তির এই মিশ্র স্মৃতি আজও সাইপ্রাসের বিড়ালপ্রেমের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।

বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা

বিড়ালের প্রজনন নিয়ন্ত্রণে সাইপ্রাস সরকার প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ইউরো ব্যয় করে আসছিল। কিন্তু ওই অর্থে বছরে কেবল প্রায় ২ হাজার বিড়ালের বন্ধ্যাকরণ সম্ভব হচ্ছিল, যা মোট প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। কোনো এলাকায় কার্যকর ফল পেতে সেখানে অন্তত ৮০ শতাংশ বিড়ালকে বন্ধ্যাকরণের আওতায় আনতে হয়; এর নিচে থাকলে নতুন জন্মের কারণে পুরো উদ্যোগের সুফল দ্রুত কমে যেতে পারে।

চাপের মুখে সাইপ্রাসের ভেটেরিনারি সার্ভিস ২০২৬ সালের জন্য দ্বীপজুড়ে সমন্বিত বন্ধ্যাকরণ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রাণিকল্যাণ কমিটি, নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বেসরকারি পশুচিকিৎসা ক্লিনিককে যুক্ত করে এই কার্যক্রম চালানোর কথা। ২০২৬ সালে বাজেট ৩ লাখ ইউরো করার পরিকল্পনা থাকলেও খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব সেই বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, একবারের কর্মসূচি দিয়ে এই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য অন্তত সাত বছর ধারাবাহিকভাবে বড় পরিসরে অর্থায়ন ও কার্যক্রম প্রয়োজন। তাঁরা জিআইএস ম্যাপ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক টিএনআর—ধরা, বন্ধ্যাকরণ ও আগের এলাকায় ছেড়ে দেওয়া—পদ্ধতি চালুর কথাও বলেছেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং বিনা মূল্যে পশুচিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

উষ্ণ আবহাওয়া, খাবার ও অনিশ্চিত জীবন

দক্ষিণ ইউরোপে বিড়ালের অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধির পেছনে পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরের উষ্ণ আবহাওয়া এবং গ্রীষ্মে পর্যটকদের দেওয়া খাবার অনেক বিড়ালকে টিকে থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু খাবারের উপস্থিতি মানেই নিরাপদ জীবন নয়। দেখভালের অভাবে জন্ম নেওয়া ছানাদের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ মারা যায়।

প্রতি শরতে হাজার হাজার বিড়াল অনাহার, রোগ কিংবা বিষাক্ত খাবারের কারণে মারা পড়ে। ফলে বাইরে থেকে যে দৃশ্যটি বিড়ালের স্বর্গ বলে মনে হয়, তার ভেতরে রয়েছে বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতা। জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অর্থ শুধু বেশি বিড়াল নয়; খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় ও নিরাপত্তার ওপরও বাড়তি চাপ।

নুয়েভা তাবারকা: ছোট দ্বীপ, বড় বিড়াল-রাজ্য

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অ্যালিক্যান্টে শহরের কাছে অবস্থিত নুয়েভা তাবারকা আয়তনে খুবই ছোট। দ্বীপটির দৈর্ঘ্য মাত্র ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার, আর প্রস্থ প্রায় ৪০০ মিটার। স্পেনের সবচেয়ে ছোট স্থায়ী জনবসতিপূর্ণ এই দ্বীপে সারা বছর বসবাস করেন প্রায় ৫০ জন মানুষ।

গ্রীষ্মে পর্যটকের ভিড়ে দ্বীপটি ব্যস্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু শরৎ কিংবা শীতের শান্ত বিকেলে নুয়েভা তাবারকার রাস্তায় মানুষের চেয়ে বিড়ালের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দ্বীপটিতে স্থায়ী মানুষের তুলনায় বিড়ালের সংখ্যা দ্বিগুণ পাওয়া যায়। সোনালি রোদে অলস ভঙ্গিতে বসে থাকা বিড়ালগুলো দেখে অনেক দর্শকের মনে হয়, যেন দ্বীপের প্রকৃত কর্তৃত্ব তাদেরই।

“আমরাই এই দ্বীপের আসল মালিক, তোমরা তো স্রেফ এক দিনের মেহমান!”

পর্যটকদের জন্য বিষয়টি কখনো কখনো মজার অভিজ্ঞতা, আবার খাবার রক্ষা করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিড়ালের কৌতূহলী নজর এড়িয়ে বাইরে বসে খাওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হয়। তবে দ্বীপের এই প্রাণীগুলো নুয়েভা তাবারকার পরিচয়েরই অংশ হয়ে গেছে।

দুর্গ, উদ্বাস্তু ইতিহাস ও সামুদ্রিক সংরক্ষণ

নুয়েভা তাবারকার অতীতও কম আকর্ষণীয় নয়। অষ্টাদশ শতকে তিউনিসিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল থেকে জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া ইতালীয়, বিশেষত জেনোয়িজ, উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্য স্পেনের রাজা এখানে দুর্গ ও শহর নির্মাণ করেন। দ্বীপটির সোজাসাপটা রাস্তা এবং সেই সময়ের দুর্গ এখনো পুরোনো ইতিহাসের চিহ্ন বহন করে।

১৯৮৬ সালে নুয়েভা তাবারকা স্পেনের প্রথম স্বীকৃত সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিতি পায়। তাই এর পরিচয় শুধু পর্যটন বা বিড়ালকেন্দ্রিক নয়; উপকূলীয় পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও দ্বীপটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সাইপ্রাস ও নুয়েভা তাবারকা—দুই জায়গার গল্পই মনে করিয়ে দেয়, মানুষের সহানুভূতি ও পরিকল্পনার অভাব একসঙ্গে থাকলে প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে, কিন্তু তাদের জীবন তাতে সহজ হয় না।

Frequently Asked Questions

What is য দ ই দ ব প ব?

য দ ই দ ব প ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does য দ ই দ ব প ব matter?

য দ ই দ ব প ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment