পদ্মা ব্যারাজের অর্থায়ন নিজস্ব, তিস্তা প্রসঙ্গে ভারত-চীনের দ্বারস্থ হওয়ার কারণ কী?
পদ ম ব য র জ ন – জনতার দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শামীম কামাল পদ্মা ব্যারাজ করা যাবে নিজস্ব অর্থায়নে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, তিস্তা নিয়ে কেন এখন ভারত বা চীনের দ্বারস্থ হতে হবে তা প্রশ্ন তুলেছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য তিনি আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে অবতরণ করেন।
ব্যারাজ গ্রহণের বিরোধিতা না তামাক উৎপাদনে দুর্দান্ত পরিস্থিতি
সংবাদ সম্মেলনে মো. শামীম কামাল বলেন, ‘সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তিস্তা নিয়ে অনেক আবেগঘন বক্তব্য হয়েছে। সেখানে সরকারের কাছে সূত্র দেখায় যে পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু আমরা এখন সন্দেহ করছি যে তিস্তা প্রসঙ্গে সেই অর্থের পরিচয় নেই।’
‘তিস্তাকে বাদ দিয়ে হঠাৎ করে পদ্মার প্রজেক্টের আলোচনা হচ্ছে। আমাদের মনে হয় এটা একটি সূক্ষ্ম টালবাহানা। সাত কোটি মানুষ পদ্মা পাড়ে উপকৃত হোক বলে আমরা চাই। কিন্তু তিস্তা বিষয়ে কেন এত আলোচনা ছাড়া অন্য দেশের ওপর ভার চাওয়া হচ্ছে?’
কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যের দাবি ও চাঁদাবাজি
তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে বড় আয়ের ফসল হলো তামাক, ভুট্টা, আলু ও বাদাম। সেখানে এই বছর তামাক নিয়ে দুর্দান্ত দুর্গতি দেখা গেছে। কৃষকরা তামাক বিক্রি করতে পারছেন না, বিক্রয় হচ্ছে না। তাঁদের ঘর-সংসার, জীবন-জীবিকা স্তব্ধ হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করে মো. শামীম কামাল দাবি করেন যে আগস্ট তিস্তার পরে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল চাঁদা বাজি করছে। তামাক বিক্রয়ে এখন দুটি চাঁদা হয়েছে—একটি কৃষকের ও অন্যটি তামাক কোম্পানির কাছ থেকে।
‘সারের প্রয়োজনে সার নাই, জ্বালানির প্রয়োজনে পেট্রল-ডিজেল নাই। পণ্য উৎপাদিত হয়েছে কিন্তু সে পণ্য কেন কিনছেন না? সুতরাং তিস্তা বিষয়ে সংকট ও দুর্দান্ত অবস্থা তৈরি হয়েছে।’
অন্যান্য বক্তাদের মতামত
এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জনতার দলের মহাসমন্বয়ক ও মুখপাত্র ডেল এইচ খান, মহাসচিব মো. আজম খান প্রমুখ। তাঁদের মতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন হওয়া আবশ্যক। কারণ পদ্মার ব্যারাজের জন্য সেই অর্থায়ন হয়েছে যেখানে তিস্তা নিয়ে অনুগ্রহ হয় না।
