নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষ
ন ত রক ন য় পশ র – ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা বিষয়ে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হাতাহাতি ঘটেছে। ঘটনাটি বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে ঘটে। পরে ইজারা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয় উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন এগারো ইউনিয়নে মোট ৫৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আজ বুধবার দুপুর প্রায় ১২টার দিকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহানের উপস্থিতিতে ইজারা ডাক প্রকাশ্যে শুরু হয়। সেই সময় উভয় দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তার পর তর্ক শুরু হয়, যার ফলে বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের কয়েকজন নেতাকে কিলঘুষি মারেন। সে বিষয়ে জামায়াতের নেতারা হল থেকে বের হয়ে যান।
অস্থায়ী হাটের ইজারা বিষয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, কোরবানি উপলক্ষে হাটের ইজারার জন্য বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরি হয়। তিনি বলেন, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নেত্রকোনার পূর্বধলা আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা বলেন, ‘আমি ঢাকায় রয়েছি। শুনেছি বিএনপির নেতা-কর্মীরা সব হাটের ইজারা জোর করে নিতে চেয়েছিলেন। সেই সময় আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। তখন বিএনপির নেতারা আমার কর্মীদের মারধর করে বের করে দেন। আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।’
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিএনপি আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার বলেন, ‘এমপির প্রভাব খাঁটিয়ে জামায়াতের লোকজন সব কটি বাজার নিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তখন আমার দলের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। এ নিয়ে কিছুটা বিশৃঙ্খলা ঘটে। আমরা চাই, উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বাজার ইজারা দেওয়া হোক।’
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহানকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
