Lifestyle

মস্তিষ্কে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বেশি জায়গা নেয় কেন

ai_EbJRpje
Foto : Joseph Lopez - banglajibon.com
Table of Contents
  1. কেন শত্রুতাই মস্তিষ্কে বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

কেন শত্রুতাই মস্তিষ্কে বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে

Banglajibon.com – মস ত ষ ক বন ধ ত – মানুষের মন সম্পর্কের এক জটিল মানচিত্র আঁকে। কারা কেমন, কে কার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত—এসব হিসাব রাখতে মস্তিষ্ক সক্ষম। কিন্তু এই মানচিত্রে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতার ছাপ অনেক বেশি স্পষ্ট। এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ কাজ। মস্তিষ্ক কেবল মুখ বা নাম মনে রাখে না। সামাজিক সম্পর্কের সমীকরণে প্রতিটি মানুষের অবস্থান বুঝতে পারে। ফলে নিউরাল মানচিত্রে শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কগুলো বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি স্থায়ী ও স্পষ্ট হয়।

ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক এই বিষয়ে একটি চমকপ্রদ পরীক্ষা চালিয়েছেন। প্রফেসর তামামি নাকানোর নেতৃত্বে ওই দল ২১ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ওপর পরীক্ষা পরিচালনা করেন। পরীক্ষার জন্য এমন একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন ড্রামা সিরিজ বেছে নেওয়া হয় যা অংশগ্রহণকারীরা আগে কখনো দেখেননি। সিরিজটির নাম ‘সুটস’।

ড্রামা সিরিজটি দেখানোর আগে ও পরে মোট আটজন প্রধান চরিত্রের মুখের ছবির প্রতি অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের এফএমআরআই স্ক্যান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নাটকের ছয়টি এপিসোড দেখার পর চরিত্রগুলোর নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক রেটিং করেন। গবেষকেরা রিপ্রেজেন্টেশনাল সিমিলারিটি অ্যানালাইসিস পদ্ধতির মাধ্যমে মস্তিষ্কের নিউরাল অ্যাক্টিভিটি বিশ্লেষণ করেন।

মস্তিষ্কের নিউরাল প্যাটার্ন

ফলাফলে দেখা যায়, মাত্র কয়েক ঘণ্টার গল্প বলা বা বিনোদনমূলক কাহিনি অচেনা মুখের প্রতি মস্তিষ্কের স্নায়বিক সাড়া পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। নাটকের গল্প জানার আগে একটি মুখ ছিল সাধারণ ছবি মাত্র। কিন্তু গল্প দেখার পর প্রতিটি চরিত্র একটি নির্দিষ্ট সামাজিক পরিচিতি পায়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সখ্য বা বন্ধুত্বের সম্পর্কের তুলনায় বৈরী বা শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কগুলোর সময়ে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল ও প্যারাইটাল অঞ্চলে অনেক বেশি স্পষ্ট নিউরাল প্যাটার্ন তৈরি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সখ্য বা বন্ধুত্বের সম্পর্কের চেয়ে শত্রুতাপূর্ণ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সম্পর্কগুলো মস্তিষ্কে অনেক বেশি স্পষ্ট ও শক্তিশালী নিউরাল প্যাটার্ন বা ছাপ রেখে যায়। মস্তিষ্কের মূলত দুটি নির্দিষ্ট অংশে শত্রুতার এই নিউরাল সিগনেচারগুলো বেশি সক্রিয় হতে দেখা গেছে।

লেফট অ্যান্টেরিয়র সুপ্রামার্জিনাল জাইরাস: এটি সামাজিক অনুভূতি, সহমর্মিতার সীমা এবং অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। রাইট মিডিয়াল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স: এটি সামাজিক জ্ঞান এবং অন্যের চিন্তাভাবনা বিশ্লেষণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

বিবর্তনগত কারণ

বিবর্তনগত দিক থেকে টিকে থাকার জন্য শত্রু বা প্রতিপক্ষকে আগাম অনুমান করা মানুষের জন্য বেশি জরুরি। কে বন্ধু, তার চেয়ে কে ক্ষতিকর বা হুমকি হতে পারে, তা মনে রাখা জীবনের নিরাপত্তার জন্য বেশি প্রয়োজন। বৈরী সম্পর্ক পুরো সামাজিক নেটওয়ার্কের হিসাবই বদলে দিতে পারে। তাই মন শত্রুতাই বেশি মনোযোগ দেয়।

এ ছাড়া সরাসরি নিজে কোনো বিপদে না পড়লেও সমাজ জীবনের শিক্ষা নেওয়ার চমৎকার সুযোগ করে দেয় গল্প বা নাটকের চরিত্রগুলো। নাটকের কোনো চরিত্র দেখলে মস্তিষ্কের প্রিকিউনিয়াস নামক অংশটি অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই অঞ্চলটি স্মৃতি, আত্ম-প্রতিফলন এবং মানুষের ভেতরের চিন্তা বিশ্লেষণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ফলে ইতিহাস বা প্রেক্ষাপট জানার পর মানুষের মুখটি কেবল একটি চেহারা থাকে না, বরং একটি বিস্তৃত তথ্যভান্ডারের দরজা খুলে দেয়।

সমাজ ও শত্রুতা

আমরা প্রায়ই ভাবি, সংঘাত বা প্রতিযোগিতা সামাজিক সম্পর্কের ব্যর্থতা। কিন্তু বাস্তবে সহযোগিতা যেমন সমাজ গঠন করে, ঠিক তেমনি শত্রুতাই সমাজকে বেশি সুসংগঠিত করে তোলে। জটিল সামাজিক সম্পর্ক সহজে বুঝতে মস্তিষ্ক শত্রুতাকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে। তবে এই মানসিক মেকানিজমের একটি বড় বিপদও রয়েছে। বিপদ হলো, একবার বিরূপ ধারণা তৈরি হলে মন নতুন তথ্যকেও সেই শত্রুতার ভিত্তিতেই সাজাতে থাকে। এখান থেকেই সমাজে মেরুকরণ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্বেষ তৈরি হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রয়োগ

এই গবেষণা কেবল মানুষের গল্প বোঝার বা সামাজিক আচরণ বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষকদের মতে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিতেও এই আবিষ্কারের প্রয়োগ সম্ভব। এআই মডেলগুলোকে যদি মানুষের মতো শত্রুতা ও প্রতিযোগিতার সামাজিক টানাপোড়েন চিহ্নিত করতে শেখানো যায়, তবে তারা মানুষের আচার-ব্যবহার ও সামাজিক গতিশীলতা আরও নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পারবে।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, নিউরোসায়েন্স নিউজ

Frequently Asked Questions

What is মস ত ষ ক বন ধ ত?

মস ত ষ ক বন ধ ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does মস ত ষ ক বন ধ ত matter?

মস ত ষ ক বন ধ ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment