Bangladesh

নরসিংদীর রায়পুরা: একই নামে দুই বিদ্যালয় বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

Foto : Jennifer Jones - banglajibon.com

একই নামে দুটি স্কুলের জটিলতা: রায়পুরার শিক্ষাঙ্গন বিপাকে

Banglajibon.com – নরস দ র র য়প র – নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় কোহিনুর জুট মিলস হাইস্কুল নামে দুটি স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই দ্বৈত পরিচয়ের কারণে বোর্ডের তথ্য, সরকারি সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনসহ বিভিন্ন নথিপত্রে বারবার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন।

দুটি স্কুলের অবস্থান ও কার্যক্রম

উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে কোহিনুর জুট মিলস হাইস্কুলের মূল ক্যাম্পাসটি অবস্থিত। এখানে একটি চারতলা ভবন এবং একটি টিনশেডের ভবনে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠদান চলছে। অন্যদিকে মহেশপুর ইউনিয়নের ঘাগটিয়া এলাকায় একই নামে আরেকটি স্কুল চালু রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটিতে দোচালা টিনের তিনটি কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ঘাগটিয়া শাখার বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে যে, কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে না। ১৪ জুলাই ক্লাস চলাকালে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে মাত্র দুই শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেছে।

শিক্ষকদের সমস্যা ও বেতন-ভাতার জটিলতা

দুটি বিদ্যালয়ের জন্য মোট আটজন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তথ্য থাকলেও তাঁদের মধ্যে সাতজনই ঘাগটিয়ার বিদ্যালয়ে কর্মরত। নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম না চালিয়েই তাঁরা সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে গৌরীপুরের কোহিনুর জুট মিলস হাইস্কুলে মাত্র একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

গৌরীপুরের বিদ্যালয়টি মূল ক্যাম্পাস, আর ঘাগটিয়া শাখাটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস। বর্তমানে মূল ক্যাম্পাসে আমি এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাচ্ছি না। সর্বশেষ আরও দুজন শিক্ষক ঘাগটিয়া শাখার চলে গেছেন। সেখানে বসেই তাঁরা সরকারি বেতন-ভাতা নিচ্ছেন।

ইতিহাস ও বিতর্কের সূত্রপাত

১৯৮১ সালে গৌরীপুর গ্রামে কোহিনুর জুট মিলস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুই শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান ও আহসান হাবিবকে বহিষ্কার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁরা বিদ্যালয়ে স্বপদে পুনর্বহাল হন। এরপর ২০০৬ সালে ঘাগটিয়া এলাকায় একই নাম ও একই ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে কোহিনুর জুট মিলস হাইস্কুল (ঘাগটিয়া) নামে আরেকটি বিদ্যালয় চালু করেন তাঁরা। তখন থেকেই একই পরিচয়ে দুটি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলতে থাকে।

আদালতের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুযায়ীই আমার বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। ২০০৬ সালের শেষ দিকে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আবু মোহাম্মদের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি ঘাগটিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি এবং পরে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি।

অফিসিয়ালদের মতামত ও সমাধানের পথ

গৌরীপুর কোহিনূর জুটমিল হাইস্কুলের শিক্ষক মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মূল ক্যাম্পাসে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। মাত্র পাঁচজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে মূল ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সামালগীর আলম বলেন, গৌরীপুরের কোহিনুর জুট মিলস হাইস্কুলই মূল প্রতিষ্ঠান। তবে আদালতের আদেশের ভিত্তিতে ঘাগটিয়ায়ও একই নামে বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, এটি একটি গুরুতর অনিয়ম। দুই ভাই মিলে যে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, সেটির কোনো বৈধতা নেই। প্রতিষ্ঠানটিকে মূল অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। আদালতের রায় থাকলেও সেখানে বাস্তবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয় না।

Leave a Comment