Bangladesh

কৃষিজমি রক্ষা করেই এগ্রিভোল্টাইক সম্প্রসারণের আহ্বান

Foto : Joseph Lopez - banglajibon.com

কৃষিজমি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে এগ্রিভোল্টাইক সম্প্রসারণের আহ্বান

Banglajibon.com – ক ষ জম রক ষ কর ই – দেশে এগ্রিভোল্টাইক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু একাধিক দিক বিবেচনা করে আহ্বান জানিয়েছেন। খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের স্বার্থ এবং পরিবেশগত সুরক্ষা—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্রে রেখেই এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে হবে। একই জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল এগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ: এক্সপ্লোরিং লোকাল অ্যাকশন মডেল ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, খরা, তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। একই সময়ে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদাও বাড়ছে।

এনডিসি ৩.০-এর লক্ষ্য ও কৃষিজমি রক্ষা

এ প্রেক্ষাপটে এনডিসি ৩.০-এর আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য অর্জনে কৃষিজমি রক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এগ্রিভোল্টাইক ব্যবস্থার মাধ্যমে একই জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষিকাজ একসঙ্গে করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনার এটি ফসল উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাষ্পীভবন কমানো, পানির দক্ষ ব্যবহার এবং কৃষকের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫-এ এগ্রিভোল্টাইককে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে সৌর প্যানেলের নকশা, উচ্চতা ও অবস্থান এমন হতে হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত না হয়। মন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের প্রকল্পে কৃষক যেন জমির অধিকার হারিয়ে না ফেলেন বা সামান্য সুবিধা পেয়ে বঞ্চিত না হন। বরং কৃষকের জীবিকা সুরক্ষিত রেখে অতিরিক্ত ও স্থায়ী আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত এলাকার সক্ষমতা বৃদ্ধি

এগ্রিভোল্টাইক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সৌর সেচ, হিমাগার, ফসল শুকানো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন গ্রামীণ উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের সক্ষমতাও বাড়বে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মন্ত্রী বলেন, এগ্রিভোল্টাইকের সম্প্রসারণে কার্যকর অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক মডেল প্রয়োজন। প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ-৬ এবং জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজমের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে কার্বন অর্থনৈতিকের সুযোগ কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে পরিবেশগত অখণ্ডতা, স্বচ্ছতা ও জাতীয় কার্বন বাজারের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস (আইজিইএস) ও এইচএসবিসি বাংলাদেশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, টেরা জাপান এবং ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Leave a Comment