ইর ন র জ হ জে ইউক্রেনের হামলা: দুই যুদ্ধের সংযোগ
Banglajibon.com – ইর ন র জ হ জ ইউক্রেনের হামলার ঘটনাটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করছে। ২৫ জুলাই কাস্পিয়ান সাগরে চালানো ওই হামলা দুই দেশের মধ্যে চলমান পরোক্ষ সংঘাতকে সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইউক্রেনের দাবি, ইরানি ওই জাহাজটি ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করছিল। তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।
হামলার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
হামলায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তেহরান। ঘটনার পর ইরানের কর্মকর্তারা একাধিক বিবৃতি ও গণমাধ্যমে দেওৗা মন্তব্যে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওৗার হুমকি দিৗেছেন। এর জবাবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধে ইরানের সামরিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করলে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করার কোনো সুযোগ নেই ইরানের।
হঠাৎ করে ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে এই বৈরিতার সূত্রপাত মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করেই। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়া ইরানের তৈরি বিপুলসংখ্যক দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান রাশিয়াকে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সরবরাহ করেছে।
ইউক্রেনও দাবি করেছে, রুশ সেনাদের ড্রোন পরিচালনা প্রশিক্ষণ দিতে প্রশিক্ষক পাঠিয়েছিল ইরান। তবে তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের সরবরাহ করা তুলনামূলক কম খরচের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। এসব ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনকে নিজস্ব প্রতিরোধব্যবস্থা দ্রুত উন্নত করতে হয়েছে।
বর্তমানে ইউক্রেনও কম খরচের ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি তৈরি করে ফেলেছে। বর্তমানে ইউক্রেনের এই প্রযুক্তি সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাঈলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালালে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা-ড্রোন প্রযুক্তি সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।
গত মার্চে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি জানান, ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় মিত্রদের সহায়তা করতে ২০০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সামরিক বিশেষজ্ঞকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।
একই সময়ে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রতিরক্ষা চুক্তিও করেছে কিয়ভ। এদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট নজরদারি-সংক্রান্ত তথ্য দিচ্ছে। জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, এসব তথ্য ইরানকে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।
এর মধ্যেই কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইউক্রেনের এই পদক্ষেপকে ইরান-ইউক্রেন পরোক্ষ সংঘাতের সরাসরি রূপ নেওয়ার সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হামলাটিকে জাতিসংঘ সনদের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইউরোপকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে টেনে আনতেই ইসরাঈলের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি বলেছেন, ‘এই হামলার জবাব না দিয়ে থাকা যাবে না।’ ফলে ইরান-রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা, ইউক্রেনের পাল্টা প্রতিরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত—সব মিলিয়ে দুটি পৃথক যুদ্ধ এখন ক্রমেই একই ভূরাজনৈতিক সংঘাতের অংশ হয়ে উঠছে। আর কাস্পিয়ান সাগরে জাহাজে হামলার ঘটনাটি সেই সংঘাতকে আরও সরাসরি ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

