Bangladesh

বহির্নোঙরে চুরি ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com

বহির্নোঙরে জাহাজে চুরি রোধে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন পদক্ষেপ

Banglajibon.com – বহ র ন ঙর চ র ঠ – চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সম্প্রতি বেশ কিছু জাহাজে চুরির অভিযোগ উঠেছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সাথে সমন্বয় করে নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োগ, জাহাজের আগমনের তথ্য (ইটিএ) বাধ্যতামূলকভাবে সরবরাহ, এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি—এইসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।

সমন্বয় সভা ও সিদ্ধান্তসমূহ

গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) বন্দরের সভাকক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়। ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে চুরি প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহির্নোঙরে নিরাপত্তা জোরদারে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। জাহাজের আগমনের নির্ধারিত সময় (ইটিএ) কোস্ট গার্ডকে বাধ্যতামূলকভাবে জানাতে হবে। এতে করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

শিপিং এজেন্ট ও জাহাজমালিকদের নির্দেশনা

চুরি প্রতিরোধে প্রতিটি জাহাজে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ও প্রশিক্ষিত ওয়াচম্যান নিয়োগ নিশ্চিত করতে শিপিং এজেন্ট ও জাহাজমালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবৈধ কার্যক্রম দমনে ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের (ভিটিএমআইএস) মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্যবিনিময় করা হবে। যৌথ টহল বৃদ্ধি এবং বহির্নোঙরে অননুমোদিত ফিশিং ও অন্যান্য নৌযানের চলাচল নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোস্ট গার্ডকে প্রয়োজনীয় ম্যাজিস্ট্রেসি প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বৈধ শিপস চ্যান্ডলারদের মাধ্যমে জাহাজে লজিস্টিকস ও বাংকারিং কার্যক্রম পরিচালনার সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করা হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের ভূমিকা

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে কয়েকটি জাহাজে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নড়াচড়া শুরু করে। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক বিষয়টি জানিয়ে গতকাল বুধবার নৌপরিবহনমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বহির্নোঙরে চুরি ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

পাশাপাশি বন্দর ব্যবহারকারী, জাহাজমালিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য আরও নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব কেফায়েত হামিম বলেন, বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় বন্দরের মূল চ্যানেল ও বহির্নোঙরে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করা হবে।

Leave a Comment