Bangladesh

গণহত্যার দায়ে আ.লীগের বিচার দাবি ১১ দলের

Foto : James Anderson - banglajibon.com

জুলাই গণহত্যার বিচার ও দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে ১১ দলের মানববন্ধন

Banglajibon.com – গণহত য র দ য় আ ল – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে মানববন্ধন করে ১১ দলীয় ঐক্য। এই সংগঠনটি জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের জন্য দাবি জানিয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী ফৌজদারি অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন, তাদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার চাওয়া হয়েছে।

নেতাদের বক্তব্য ও দাবি

মানববন্ধনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণহত্যার বিচার না হলে জনতার আদালতে এই সরকারের বিচার হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমাদের শহীদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারীরা জাতিকে এক নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন।

জাতি প্রত্যাশা করেছে বিপ্লব-পরবর্তী প্রথম কাজ হবে গণহত্যার বিচার, তারপর রাষ্ট্র সংস্কার, এরপর নির্বাচন। কিন্তু গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কার ব্যতীতই একটি নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসে চিফ প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দিয়ে দলীয় চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে। দলীয় চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের পর থেকে গণহত্যার বিচারে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। ফলে আবারও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে।

আযাদ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান গণহত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।

আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বিএনপি নির্বাচনের জন্য যতটা উদগ্রীব ছিল, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের বিষয়ে বর্তমানে তাদের কোনো উদগ্রীবতা দেখা যায় না। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি নিজেদেরকে জুলাইয়ের শক্তির পক্ষের শক্তি মনে করে, তবে অবশ্যই আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী ফৌজদারি অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে গণহত্যার দায়ে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, জুলাই আন্দোলনকালীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সকল সংগঠনের সভাপতি-সেক্রেটারিকেও গণহত্যার সাথে জড়িত থাকার দায়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে। গণহত্যার বিচার নিয়ে গৃহিমসি কাম্য নয়, মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে ৭ দফা দাবি

মানববন্ধন শেষে ৭ দফা দাবিতে চিফ প্রসিকিউটর ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপি দেন ১১ দলের নেতারা। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বহু কর্মকর্তা এখনো গ্রেপ্তার না হয়ে সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। তাই তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অনেক চিহ্নিত ব্যক্তিকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ কারণে সাক্ষীরা ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছেন। তাই তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, গুম-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচারে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

Leave a Comment