একনেক সভা আজ: উন্নয়ন প্রকল্পে আবার বড় ব্যয়ের চাপ
একন ক সভ আজ – বর্তমান সরকারের তৃতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে বসছে। প্রস্তাবিত ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প এই সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৩৯ হাজার ৩১৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ ব্যয় করছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প, যা সম্পূর্ণ ব্যয়ের প্রায় ৮৮ শতাংশ দখল করেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, সবকিছু চালু হলে পদ্মা ব্যারাজের সাথে সরকার অনুমোদন দিবে ১৬টি প্রকল্প। তিনি আরও বলেন, সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো পর্যালোচনা করবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন হিসেবে সাতটি, ছয়টি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির চেষ্টা রয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক খাতে গুরুত্ব দেওয়া হলেও বড় ব্যয়ের কারণে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।
পদ্মা ব্যারাজের প্রথম পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এই প্রকল্পটি প্রাচীন বোর্ডের কাজে বৃদ্ধি করবে সেচ সুবিধা, নদী ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি উৎপাদন। প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুলাইয়ে শুরু হবে এবং ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হবে।
সভায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব দিবে। অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র উন্নীতকরণ, উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং ডিজিটাল ডেটাবেইস সংরক্ষণ প্রকল্প উঠছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের হাই-টেক সিটি-২ এবং চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড প্রকল্প আবার ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব পেয়েছে।
বেসরকারি আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প বাছাই আরও কঠোর হওয়া দরকার। বৈদেশিক ঋণপ্রবাহের হ্রাস, উন্নয়ন সহযোগীদের কঠোর শর্ত এবং ডলার সংকটের কারণে বর্তমানে প্রকল্প চয়নে সতর্কতা দেখা যাচ্ছে।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসবে ৩৯ হাজার ৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ব্যয়ের সাথে প্রকল্প ঋণ হবে ১৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন হবে ৪৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতিতে বড় ব্যয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সময় ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
