আমের ঢলন প্রথা বাতিল শুধু মুখেই
আম র ঢলন প রথ ব ত – রাজশাহী, নওগাঁ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারগুলোতে চাষিরা মণ হিসেবে আম বিক্রি করতে হচ্ছে আড়তদারদের কাছে। এ প্রথায় কেজি দরে আম কিনে বিক্রি করা হয় না, বরং ৪৫ থেকে ৫৪ কেজি পর্যন্ত ওজন বাড়িয়ে মণের হিসাব করা হয়। প্রতিবছর প্রশাসন এই প্রথাকে বাতিল ঘোষণা করে থাকে। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয় না।
গত বছরের ২৮ এপ্রিল বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভায় আম বিক্রি পদ্ধতির সমস্যা আলোচনার জন্য আলোচনা হয়েছিল। সেই সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দেশনা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর পর চার জেলার আম ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা করে দুই দফা বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আম বিক্রি হবে গ্রেড ও গুণগত মানের ভিত্তিতে কেজি দরে। আড়তদাররা ঢলন নিতে পারবেন না, কিন্তু প্রতি কেজি জন্য তাঁদের ৩ টাকা কমিশন থাকবে।
হাটে মানুষ বন্ধন করেছেন রাজশাহীর বানেশ্বর বাজারে চাষিরা। কিন্তু চার জেলার আম বিক্রি পদ্ধতি বদল হয়নি। অনেক হাটে আড়তদাররা এখনো মণের হিসাবে আম নেন। তিন কেজি হিসেবে কিনলে পরে বিক্রির সময় ওজন কিছুটা কমে যায়।
বাজারে সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম বজলুর রশীদ বলেন, বাজারে বিশৃঙ্খলা ছিল এবং সেগুলো কাটিয়ে উঠেছে। কিন্তু ঢলন প্রথা বাতিল হয়নি। তিনি বলেন, চাষিরা বড় আমগুলো ওপরে রাখে, ছোটগুলো ভেতরে থাকে। এ জন্য আড়তদাররা ঢলন নেন।
‘আম গ্রেড অনুযায়ী বাজারে বিক্রি হবে। ছোট আমের দাম এক রকম, বড় আমের দাম আরেক রকম। আর আড়তদাররা অতিরিক্ত ওজন নিতে পারবেন না।’
বানেশ্বর বাজারে আম বিক্রি করেছেন চাষি হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, এক মণের দামে তিনি ৫২ কেজি আম দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমের দাম থাকলে ঢলন দিতে অসুবিধা হয় না। কিন্তু এবার বাজার খারাপ। এত কষ্ট করার পর যেটুকু লাভ হওয়ার কথা তা ঢলন দিতে গিয়ে চলে যাচ্ছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নওগাঁর পোরশা, সাপাহার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, ভোলাহাট ও কানসাট বাজারেও চাষিরা ঢলন প্রথা মেনে চলছেন। মণপ্রতি সর্বনিম্ন ৫ থেকে ১৪ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত আম নিচ্ছেন আড়তদাররা।
