নেইমারের কাফ মাসলের চোটের ঘটনা ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসের এক পুরানো পরিস্থিতি উন্মুক্ত করেছিল
৯৮ ব শ বক প র র – ব্রাজিলের সেরা খেলোয়াড় নেইমারের কাফ মাসলে চোট হওয়া ঘটনাটি তার এক স্পষ্ট ক্ষতের কথা তুলে ধরেছিল। এটি ঠিক ২৮ বছর আগে ঘটে ছিল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের আগের সময়ে ব্রাজিল দল ঠিক সেই পরিস্থিতিতে পড়েছিল। সেই সময় তার জনপ্রিয় তারকা রোমারিও কাফ মাসলে চোট পেয়েছিলেন।
রোমারিও একদিনের ব্যবধানে সব সমীকরণ বদলে যায় এবং তিনি বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়া হন। কোচিং স্টাফ তাঁকে স্থান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো ছিল তাঁর কাছে। তিনি একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, কোচিং স্টাফ তাঁর চোটের গুরুত্ব চিনতে পারেনি।
“তারা শুধু কাগজের লেখাটাই বিশ্বাস করল, আমার ওপর আস্থা রাখল না। প্রতিবেদন অনুযায়ী আমি ৩ সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হতেও পারতাম, আবার নাও পারতাম। কিন্তু আমি নিজের শরীরকে চিনি। আমি জানি, আরও আগেই সুস্থ হয়ে উঠতাম। তারা শুধু আমার সেরে ওঠার ওপর ভরসা রাখতে পারেনি।”
রোমারিও তার চোটের প্রকৃতি আরও গভীর ছিল বলে জানিয়েছিলেন। তিনি দুটি এমআরআই প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে দেখা গেল ক্ষতটি মাত্র ৩ সেন্টিমিটার কমেছে। তিনি বলেন, “আমি মোটেও এটা আশা করিনি। প্রথম এমআরআই প্রতিবেদনের পর ডাক্তার বলেছিলেন সামান্য ইডিমা আছে, তাই আমি আশাবাদী ছিলাম।”
১৯৯৮ সালের ৩১ মে রোমারিও বিশ্বকাপ মিশন শুরুর অপেক্ষায় থাকা সেলেসাওদের দলের সঙ্গে ছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে বলেন, “চোট গুরুতর কিছু নয় এবং বিশ্বকাপে তার মাঠে নামা নিশ্চিত।” কিন্তু নাটকের তখনও অনেক বাকি ছিল।
তৎকালীন কোচ জাগালোর প্রতি ভরসা ছিল না রোমারিও সেলেসাওদের দলে। প্রথম পাতার শিরোনামে তাঁর হতাশার চিত্র অঙ্কিত হয়। ৩ জুন ও গ্লোবো পত্রিকার প্রতিবেদনে লিডিও টোলেডো, দলের প্রধান চিকিৎসক রোমারিওর ক্ষতের প্রকৃতি সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছিলেন। সেই প্রতিবেদনের সামনে রোমারিও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু দুটি প্রতিবেদন কারণে তাঁর খেলোয়াড় দলে থাকলেও দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে নেইমার থাকতে হবে।
২৮ বছর পর একই ধরনের আক্রমণ বিশ্বকাপ দলের ওপর
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা নিশ্চিত নয়। এই চোটের ধরন ব্রাজিলের সেই পুরোনো ট্র্যাজেডিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনল। রোমারিও এবং নেইমারের সম্পর্কিত দুটি বিষয় এখনও অনেকটা একই রূপে পরিচিত হয়েছে।
