শিরোপা জিতে দি মারিয়ার কড়া সমালোচনা
Table of Contents
দি মারিয়ার জোড়া গোলে রোসারিও সেন্ট্রালের শিরোপা, বিতর্কিত গার্ড অব অনার নিয়ে ক্ষোভ
Banglajibon.com – শ র প জ ত দ ম – ফাইনালের চাপ, দ্রুত গোল হজম এবং প্রতিপক্ষের কঠিন প্রতিরোধ—সবকিছুর মধ্যেও আনহেল দি মারিয়া আবারও নিজের বড় ম্যাচের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন। তাঁর দুই গোলের সুবাদে এস্তুদিয়ান্তেস দে লা প্লাতাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সুপারকোপা ইন্টারন্যাশনালের ট্রফি জিতেছে রোসারিও সেন্ট্রাল। তবে শিরোপা উৎসবের আনন্দ পুরোপুরি নির্বিঘ্ন থাকেনি। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের উত্তেজনা এবং এস্তুদিয়ান্তেসের গার্ড অব অনার দেওয়ার ধরন নিয়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সান্তিয়াগো দেল এস্তেরোর এস্তাদিও মাদ্রে দে সিউদাদেসে শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল ঘটনাবহুল। প্রথম মিনিটেই রোসারিও সেন্ট্রালকে ধাক্কা দেয় এস্তুদিয়ান্তেস। আলেক্সিস কাস্ত্রোর গোলে এগিয়ে যায় তারা। এত দ্রুত পিছিয়ে পড়ার পর রোসারিওর জন্য প্রয়োজন ছিল অভিজ্ঞ কাউকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার। সেই দায়িত্ব নেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা দি মারিয়া।
ফ্রি কিক থেকে সমতা, পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যাওয়া
ম্যাচের ২৩তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিক থেকে গোল করেন দি মারিয়া। তাঁর গোলেই স্কোরলাইন সমান হয় এবং ম্যাচে ফেরে রোসারিও সেন্ট্রাল। এই গোল শুধু ব্যবধান কমায়নি, দলের আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিয়েছে। এস্তুদিয়ান্তেসের প্রথম দিকের দাপটের পর রোসারিও ধীরে ধীরে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে থাকে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় আরও স্পষ্টভাবে। রোসারিও সেন্ট্রাল পেনাল্টি পেলে প্রথমে ভিএআরের সহায়তা নেন রেফারি দারিও হেরেরা। পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। স্পট কিক নিতে এগিয়ে যান দি মারিয়া এবং তিনি ভুল করেননি। তাঁর দ্বিতীয় গোলে প্রথমবারের মতো লিড নেয় রোসারিও সেন্ট্রাল।
দুই গোলই ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতিতে এসেছে—একটি সেট পিস থেকে, অন্যটি পেনাল্টি থেকে। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই দি মারিয়ার শান্ত থাকা ও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা রোসারিওর জন্য নির্ধারক হয়ে ওঠে। ফাইনালের মতো ম্যাচে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, সেটিই দেখা গেছে তাঁর পারফরম্যান্সে।
শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করেন হুলিয়ান ফের্নান্দেস
দ্বিতীয়ার্ধে এস্তুদিয়ান্তেস সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়। তারা গোলের জন্য চাপ বাড়ালেও রোসারিও সেন্ট্রাল ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ম্যাচের শেষ ভাগে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, কারণ এস্তুদিয়ান্তেসের একটি গোল ম্যাচকে আবার অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারত। কিন্তু যোগ করা সময়ে হুলিয়ান ফের্নান্দেস গোল করলে রোসারিওর জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
৩-১ ব্যবধানের জয় রোসারিও সেন্ট্রালকে শিরোপা এনে দেয়, আর দি মারিয়ার জোড়া গোল তাঁকে ফাইনালের প্রধান আলোচনায় পরিণত করে। দলের হয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান রাখার পর স্বাভাবিকভাবেই উদযাপনে তাঁর উপস্থিতি ছিল বিশেষ গুরুত্বের। কিন্তু পুরস্কার বিতরণ ও শিরোপা উদযাপনের সময়ের একটি ঘটনা ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনাকে অন্য দিকে নিয়ে যায়।
পিঠ ফিরিয়ে গার্ড অব অনার
রোসারিও সেন্ট্রাল যখন শিরোপা উদযাপন করছিল, তখন এস্তুদিয়ান্তেসের ফুটবলাররা গার্ড অব অনার দিতে সারিবদ্ধ হন। তবে তাঁরা বিজয়ী দলটির দিকে মুখ করে না দাঁড়িয়ে পিঠ ফিরিয়ে অবস্থান নেন। এই আচরণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়। দি মারিয়ার ভাষ্য, এস্তুদিয়ান্তেসের খেলোয়াড়েরা আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তারা কিছু করতে পারেন, কিন্তু ঠিক কী করতে যাচ্ছেন সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি।
“আমরা বিষয়টা পেছনে ফেলে এসেছি। সত্যি বলতে, আমি কিছুটা বুঝতে পারি। ছেলেরা আমাদের বলেছিল, তারা কিছু একটা করবে। কিন্তু তারা যে এমন কিছু করবে, সেটা বলেনি। শেষ পর্যন্ত সেটি আমাদের জন্যও উল্টো ফল বয়ে এনেছে। তারা এসে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়াল। স্বাভাবিকভাবেই কেউ এটাকে ব্যক্তিগতভাবে নেবে।”
দি মারিয়ার বক্তব্যে বোঝা যায়, গার্ড অব অনারের ঘটনাটি কেবল প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেই থাকেনি; তা রোসারিও সেন্ট্রালের খেলোয়াড়দের মাঝেও অস্বস্তি তৈরি করেছে। তাঁর মতে, এস্তুদিয়ান্তেসের উদ্দেশ্য হয়তো আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কোনো বার্তা দেওয়া ছিল, কিন্তু মাঠে উপস্থিত প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দেরও সেই ঘটনার অংশ হয়ে যেতে হয়েছে।
“তারা এএফএর বিরুদ্ধে কিছু করতে চেয়েছিল, কিন্তু সেটার নেতিবাচক প্রভাব আমাদের ওপরও পড়েছে। তারা যদি আগে বলত, তাহলে হয়তো আমরা গার্ড অব অনারে যেতাম না। পরিস্থিতিটাও অন্যরকম হতে পারত। এটা এড়ানো সম্ভব ছিল।”
গার্ড অব অনার সাধারণত শিরোপাজয়ী দলকে সম্মান জানানোর প্রচলিত দৃশ্য। সেই মুহূর্তে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তাই আলোচনায় এসেছে বেশি। দি মারিয়া মনে করেন, আগেভাগে বিষয়টি জানানো হলে পরিস্থিতি ভিন্নভাবে সামলানো সম্ভব ছিল। বিজয়ী দলের খেলোয়াড়েরা হয়তো সেই আয়োজনেই অংশ নিতেন না, অথবা উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যেত।
মাঠের খেলা ও ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনা
খেলা শেষ হওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। দি মারিয়া এটিকে দুঃখজনক হিসেবে দেখেছেন। যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, মাঠের লড়াইয়ের সময় খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল না। তাঁর মতে, শেষের দিকের আবেগ এবং কিছু তরুণ খেলোয়াড়ের প্রতিক্রিয়াই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
“ছেলেরা তরুণ, কেউ কেউ বিষয়টিকে সেভাবেই নিয়েছে। কিন্তু মাঠে পরিষ্কার ছিল যে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল এবং কোনো সমস্যা হয়নি।”
ফাইনালে আবেগের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। একটি দল শিরোপা জেতে, অন্য দল হার মানে; তার সঙ্গে বিতর্কিত কোনো আনুষ্ঠানিক মুহূর্ত যোগ হলে উত্তেজনা সহজেই বাড়তে পারে। দি মারিয়ার বক্তব্যে অবশ্য মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ম্যাচ-পরবর্তী আচরণকে আলাদা করে দেখার চেষ্টা স্পষ্ট। তাঁর দাবি, খেলাধুলার দিক থেকে দুই দলের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই ছিল।
ম্যাচের শেষের ঘটনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন যে, অতীতে বিভিন্ন কারণে রোসারিও সেন্ট্রাল হতাশার মুখোমুখি হলেও তারা এস্তুদিয়ান্তেসের দেখানো আচরণের পথ অনুসরণ করেনি।
“দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ঘটনাগুলো যেভাবে ঘটেছে, সেটা দুঃখজনক। আমরা কোপা আর্জেন্টিনা থেকে বাদ পড়েছি, আরও অনেক কিছু ঘটেছে। কিন্তু এস্তুদিয়ান্তেস আজ যা করেছে, আমরা কখনো তা করিনি।”
শেষ পর্যন্ত ফলাফলের বিচারে রাতটি রোসারিও সেন্ট্রালের। দি মারিয়ার দুটি গোল এবং হুলিয়ান ফের্নান্দেসের শেষ মুহূর্তের গোল দলকে সুপারকোপা ইন্টারন্যাশনালের শিরোপা এনে দিয়েছে। তবে ম্যাচটি কেবল স্কোরলাইন বা ট্রফির জন্য মনে রাখা হবে না; গার্ড অব অনার ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কও এই ফাইনালের আলোচনার বড় অংশ হয়ে থাকবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is শ র প জ ত দ ম?
শ র প জ ত দ ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does শ র প জ ত দ ম matter?
শ র প জ ত দ ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
