Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

নগরে হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ, টার্ফে খেলছেন তরুণেরা

Published Agustus 18, 2026 · Updated Agustus 18, 2026 · By Mary Taylor - banglajibon.com

Foto : Mary Taylor - banglajibon.com

ঢাকায় খেলার মাঠের সংকট আর কৃত্রিম টার্ফের উত্থান

Banglajibon.com – নগর হ র য় য চ ছ - দ্রুত নগরায়নের চাপে রাজধানীর খোলা জায়গা ও খেলার মাঠ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। জমির দাম বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এক ইঞ্চি মাটিও ফাঁকা রাখতে চায় না কেউ। ফ্ল্যাটবাড়ির এই সময়ে আঙিনার ধারণাই মুছে গেছে; নিচতলা এখন গ্যারেজে পরিণত। সরকারি মাঠ বা ছোট পার্ক যা-ও আছে, সেগুলোও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী নয়।

একজন বাসিন্দার স্মৃতি

নাখালপাড়ার মো. আসাদ বয়সে চল্লিশ পেরিয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে স্কুল থেকে ফিরেই বিকেলে খেলার মাঠে হাজির হতেন তিনি। সমান ফুটবল বা ক্রিকেটে মেতে থাকতেন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসা পর্যন্ত। আজ সেই একই এলাকার তার সন্তানরা ইট-কাঠের গরাদের মধ্যে আটকে আছে। খোলামেলা জায়গা নেই, যেখানে শিশু-কিশোর ছোটাছুটি করতে পারত। ফলে মেইনফোন ফোনের ভিডিও বা গেমসে মগ্ন হয়ে যাচ্ছে শিশুরা। আসাদ মনে করেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা কিংবা তরুণদের মাদক বা কিশোর গ্যাঙে জড়ানোর পেছনে খেলাধুলার সুযোগের অভাব একটি বড় কারণ।

ডেটা ও পরিকল্পনার ঘাটতি

বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডব্লিউবিবি) জানায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১২৯ ওয়ার্ডের মধ্যে ৪১টিতে কোনো খেলার মাঠ নেই। রাজউকের ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী প্রতি সাড়ে ১২ হাজার বাসিন্দার জন্য ২ থেকে ৩টি খেলার মাঠ থাকা উচিত। সেই হিসাবে রাজধানীতে প্রয়োজন আট শরও বেশি মাঠ।

দক্ষিণ-পূর্বের ঘনবসতিপূর্ণ খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুরে মাত্র একটি মাঠ আছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় সেখানে বহু খেলোয়াড়ের ভিড় দেখা যায়; খেলার সুযোগ পেতে অনেকে সকাল বা দুপুরেও আসে। বাগিচা এলাকার তরুণ সাজিদ চৌধুরী বন্ধুদের সঙ্গে জোড়পুকুর মাঠে খেলছিলেন। তিনি জানান, মাঠে একসঙ্গে আটটি দল ছোট পরিসরে খেলতে পারে, কিন্তু এলাকার এত মানুষের জন্য একটি মাঠ যথেষ্ট নয়। মোহাম্মদপুর শহীদ পার্কেরও একই অবস্থা — অনেক ছেলে জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

শিশুরা গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। টেলিভিশন-মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে শারীরিক সক্রিয়তা হারাচ্ছে। শুধু শিশুরা নয়, বয়স্জ্যেষ্ঠ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরাও দীর্ঘ সময়ে অনেকটা বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন করছেন।

— ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক নাঈমা আকতার

প্রধানমন্ত্রী নতুন মাঠ করা ও পুরোনো মাঠ রক্ষার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এখনো কার্যকর কিছু দেখিনি।

— কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক ও উন্নয়নকর্মী সৈয়দা রত্না

কৃত্রিম টার্ফ: বাণিজ্যিক সমাধানের সূচনা

মাঠহীনতার এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতে দেখা দিয়েছে নতুন এক বাণিজ্যিক উদ্যোগ — কৃত্রিম ঘাসের মাঠ তৈরি করে অর্থের বিনিময়ে খেলার সুযোগ দেওয়া। শহরের অসংখ্য শিশু-কিশোরের প্রয়োজনের তুলনায় এই উদ্যোগ এখনো নিতান্তই সীমিত, তবে ধীরে ধীরে কৃত্রিম টার্ফের সংখ্যা বাড়ছে। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা বাধ্য হয়ে সেখানে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যমতে ঢাকায় প্রায় ১০০ টার্ফ গড়ে উঠেছে, যেখানে দিনে ও রাতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ খেলাধুলা করে।

টার্ফে তরুণদের অভিজ্ঞতা

সকাল-সন্ধ্যা কাজে ডুবে থাকা কর্মজীবী তরুণ-যুবকরা অফিস শেষে বিনোদনের জন্য টার্ফে ঢুঁ মারছেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মী তানজিম হাসান তাঁদের একজন। ছোটবেলায় ফুটবলে মেতে থাকতেন; টার্ফে এসে সেই শৈশব যেন ফিরে পান।

খেলা আমাকে প্রশান্তি দেয়। এমন শান্তি আর কোথাও পাই না। কয়েক দিন টার্ফে যাওয়ার পর অনেকের সঙ্গেই পরিচয় হয়েছে। অফিস শেষে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন সন্ধ্যায় খেলি।

— তানজিম হাসান

কলাবাগানের মো. আজহারুল ইসলাম বন্ধুদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে টার্ফে ফুটবল খেলেন।

এলাকায় খেলার ভালো মাঠ নেই। তাই টার্ফই এখন ভরসা।

— মো. আজহারুল ইসলাম

টার্ফের নাম, মূল্য ও সময়সীমা

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নানান নামে খেলার টার্ফ তৈরি হয়েছে। আফতাবনগরে ট্যাকেল গ্রাউন্ড, ইস্ট কোর্ট, ফুটসাল হাইভ, এক্সলেড; বসুন্ধরায় জ্যাফ, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি, হ্যাঙআউট, কোর্টসাইড, গ্রিনভিল; মিরপুরে অফসাইড, দ্য স্পোর্টস এরেনা, ডিবক্স; উত্তরায় জিএসপি, টার্ফ টেন্ট, দ্য মালাবো স্পোর্টস এরেনা; মোহাম্মদপুরে গো সেভেন, দ্য রেল মাল্টিস্পোর্টস এরেনা, রিভারশোর স্পোর্টস এরেনা; যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ায় নাইন্টি মিনিটস, প্লেমেকার, ইউএইচএফসি; তেজগাঁওয়ে টার্ফ নেশন ইত্যাদি।

পাড়া বা সরকারি মাঠে খেলা বিনা মূল্যে হতো; কিন্তু টার্ফে খেলার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি সময়ের মধ্যে দেড় ঘণ্টার স্লট করে টার্ফ ভাড়া নেওয়া যায়। মাঠ ও সময়ভেদে ভাড়ার অঙ্ক ২ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। ছোট মাঠে একেক দলে ছয়জন করে, বড় মাঠে আটজন করে খেলতে পারে। বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে; শুক্র ও শনিবারে ভিড় বেশি। অফ সিজনে বা বুকিং কম থাকলে মূল্যছাড় দেওয়া হয়।

ঢাকায় টার্ফের সংখ্যা বাড়ছে। টার্ফ হওয়ার শহরের তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ জন্মেছে।

— মোহাম্মদপুরের গো সেভেন টার্ফের ব্যবস্থাপক মাজহারুল ইসলাম, আজকের পত্রিকাকে

টার্ফকে কেন্দ্র করে দৈনন্দিন খেলার বাইরে বিশেষ কিছু কার্যক্রমও চলছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is নগর হ র য় য চ ছ?

নগর হ র য় য চ ছ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does নগর হ র য় য চ ছ matter?

নগর হ র য় য চ ছ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.