জীবিকার তাগিদে হতে চেয়েছিলেন ফায়ার ফাইটার, এখন তিনি বিশ্বকাপে
জ ব ক র ত গ দ – ফুটবল শুধু টাকার খেলা নয়, রক্ত-মাংসের মানুষের আবেগের গল্পও হতে পারে। বিশ্বকাপ সেই সবচেয়ে বড় মঞ্চ। তিউনিসিয়ার ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা পেয়া স্ট্রাইকার হাজেম মাস্তুরি কোনও রূপকথার চরিত্র নয়, সেই রূপকথার জীবন্ত নায়ক বলতে পারেন। তিনি মাত্র ছয় বছর আগে হতাশায় বুটজোড়া তুলে রেখে দমকল কর্মী হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু এখন তিনি বিশ্বকাপের বৃহত্তর দুনিয়ায় পা ফেলেছেন।
১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণকালীন মাস্তুরির প্রথমার্ধ ক্যারিয়ার ছিল কষ্টের চরম পরিচয়। ২০১৯ সালে তিনি খেলতেন তিউনিসিয়ার তৃতীয় বিভাগের দল দেগুচ এফসিতে। পরবর্তী বছরেও ভাগ্য বদলায়নি; গোল করার পরিবর্তে স্থান বজায় রাখা হয়েছিল তার অন্যতম প্রধামন। ক্যারিয়ারের আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তিনি ক্যারিয়ারের একটি নিরাপদ বিকল্প খুঁজতে শুরু করেন।
একটি স্থায়ী চাকরি আর আর্থিক সুরক্ষার জন্য তিউনিসিয়ার ক্লাব থেকে দূরে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন মাস্তুরি। ফায়ারফাইটার হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি, কিন্তু সামনের সবচেয়ে বড় চূড়ান্ত পরিবর্তনের মুখে তিনি এখন বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিচ্ছেন।
রুক্ষ মরুভূমির সোনার ফসল
২০২৪ সালে তিউনিসিয়ার ক্লাব ইউএস মোনাস্টিরে যোগ দেওয়াটা ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। সেখানে গিয়ে তিনি যেন সেই মরুভূমির সোনার ফসল ফলায়। গতি, ড্রিবলিং আর ডি-বক্সের মধ্যে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের ঝড় তুলেছেন সে মৌসুমে তিনি ১৭টি গোল করেন। এই বিস্ময়কর পারফরম্যান্সের সুবাদে তিউনিসিয়া জাতীয় দলে তার প্রথম ডাক পান।
তিউনিসিয়া জাতীয় দলে যোগদানের পর মাস্তুরি এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে নতুন করে চিহ্নিত করতে শুরু করেন। সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি ২০২৫ সালে সামনের এক মার্কিন প্রস্তাব পান। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফির ছাড়া রাশিয়ার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব এফসি ডায়নামো মাখাচকালা তাকে দলে ভেড়ায়।
আধুনিক ফুটবলের কর্পোরেট পর্যায়ে নামী একাডেমি ছাড়া কোটি টাকার প্রজেক্ট ছাড়া তারকা হওয়া বিশ্বাস করা হয় না, কিন্তু হাজেম মাস্তুরি প্রমাণ করেছেন যে প্রতিভার সাথে অদম্য ইচ্ছেশক্তি আর হার না মানা মানসিকতা সাধার
