ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: কৌশল বদলাচ্ছে এনসিপি
সিটি নির্বাচনের আগে এনসিপির কৌশলগত পাল্টে-বদল: দক্ষিণে পাটোয়ারী, উত্তরে সজীব ভূঁইয়া
Banglajibon.com – ঢ ক র দ ই স ট - ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার প্রার্থী-নির্বাচন ও ভোটার-নিবাসের বিষয়ে একটি বড় কৌশলগত ঘোর ঘটিয়েছে। জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদের জন্য সমঝোতা না হওয়ায় দলটি এককভাবে নির্বাচনে নামার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নতুন পথের প্রথম ধাপ হিসেবে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে — যা শুধু ব্যক্তিগত ঠিকানা বদলের ব্যাপার নয়, বরং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রাজনৈতিক হিসাবের সরাসরি প্রতিফলন।
ভোটার এলাকা অদলবদল: দক্ষিণ-উত্তরের ক্রসওভার
এনসিপির গণমাধ্যমবিষয়ক উপকমিটি গত সোমবার দুই শীর্ষ নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, যিনি আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন, এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত। অন্যদিকে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যিনি ধানমন্ডি এলাকার ভোটার ছিলেন, এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর এলাকার ভোটার। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই স্থানান্তরের আবেদন করা হয়। যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা শেষে কমিশন আবেদন অনুমোদন দেয়।
আমার এবং নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ভোটের (ভোটদানের) এলাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে নির্বাচনী এলাকা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ কথা বলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
জামায়াতের সিদ্ধান্তই কৌশল বদলের মূল কারণ
এনসিপির প্রাথমিক ঘোষণায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী দক্ষিণ সিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কারিমকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিলে জোটগত সমঝোতার ভিত্তিই ভেঙে যায়। এনসিপির প্রত্যাশা ছিল, জোটসমঝোতার আলোকে জামায়াত দক্ষিণের মেয়র পদে এনসিপিকে সমর্থন দেবে। সেই সমঝোতা না হওয়ায় দলটি বিকল্প কৌশলের পথে এগোচ্ছে — দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা।
পাটোয়ারীর দক্ষিণ-গ্রহণযোগ্যতা: জামায়াত ভোটারের কাছে সংযোগ
দলীয় নেতাদের একাংশের মতে, জামায়াতের স্থানীয় সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর একটি নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, এবং সেই নির্বাচনে জামায়াতের কাছ থেকে লোকবলসহ বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়েছিলেন। জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর হয়ে এলাকাভিত্তিক প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে দক্ষিণে তাঁকে প্রার্থী করা হলে জামায়াতের ভোটারদের একটি অংশকে নিজেদের পক্ষে টানার সুযোগ তৈরি হতে পারে — এটিই এনসিপির মূল হিসাব। একই সঙ্গে জুলাই-পরবর্তী তরুণ ভোটারদের মধ্যে নাসীরুদ্দীনের যে পরিচিতি গড়ে উঠেছে, সেটিও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
আসিফ মাহমুদের পূর্ববর্তী নির্বাচনী ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থান
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। স্বতন্ত্র মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন, নির্বাচনী প্রচারও শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। আর এনসিপি তখন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অংশ হয়ে নির্বাচন করে। জামায়াতের কাছে ছাড় না পেয়ে আসিফ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি — দলের ভেতরে এই আলোচনা এখনো চলমান। এবারও সেই একই বাধা দক্ষিণে তাঁর প্রার্থীত্বকে বন্ধ করে দিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে উত্তর সিটিতে তাঁকে মেয়র প্রার্থী করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জোটের ভেতরে একক নির্বাচনের পথ
জামায়াত, এনসিপিসহ বিরোধী জোটের দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচনকে নিজেদের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে এই দলগুলো। জোটের নেতারা বলছেন, শুরু থেকেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে লড়ার কথা বলে আসছিলেন তারা, এবং এখনো সেই পথেই আছেন। তবে একক নির্বাচন করলেও রাজপথে বিরোধী ঐক্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
জোটে আগেই এ বিষয়ে আলোচনা হয়ে আছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক শরিক দল যার যার মতো করে নির্বাচন করবে। আমাদের নিজেদের মধ্যে সব বিষয়ে বোঝাপড়া আছে। আশা করি, এটা অটুট থাকবে এবং স্থানীয় নির্বাচনের পথেও তা বজায় থাকবে।
এ কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ও দৃশ্যমান পরীক্ষা। মেয়র পদটি শুধু প্রশাসনিক ক্ষমতাই নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাবশালিতার একটি প্রতীক। জোটের ভেতরে মেয়র পদের বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দর-কষাকষি চলছিল, কিন্তু জামায়াতের সাদিক কারিমকে দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত সেই আলোচনাকেই ভেঙে দেয়। এনসিপির জন্য এটি একটি কৌশলগত সংকট — জোটের ভেতরে থাকতেই হবে, কিন্তু নির্বাচনী প্রার্থীত্বের জন্য জোটসঙ্গীর সম্মতি ছাড়া পথ নেই। এই দ্বন্দ্বের সমাধান হিসেবেই দলটি এখন একক নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে, যা জোটের ভেতরে নতুন রাজনৈতিক গতিশীলতা তৈরি করবে। ভোটার এলাকা পরিবর্তন এই নতুন গতিশীলতার প্রথম দৃশ্যমান ধাপ, যা নির্বাচন কমিশনের নথিতেও প্রতিফলিত হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ঢ ক র দ ই স ট?ঢ ক র দ ই স ট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ঢ ক র দ ই স ট matter?ঢ ক র দ ই স ট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.