Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

গবেষণায় সংখ্যাগত নয়, গুণগত মানের ওপর জোর দিতে হবে: ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ

Published Agustus 16, 2026 · Updated Agustus 16, 2026 · By Richard Smith - banglajibon.com

Foto : Richard Smith - banglajibon.com

গবেষণা: সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানের ওপর জোর

Banglajibon.com – গব ষণ য় স খ য গত - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের সাবেক ডিন ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ। ভূগর্ভস্থ পানি নিয়ে তাঁর গবেষণা ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বেশি সাইটেড শিক্ষক হিসেবে তিনি পরিচিত। অবসর গ্রহণের পর তিনি দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহারের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই প্রত্যাহারের পেছনে কী কারণ এবং কীভাবে তা প্রতিরোধ করা যায়—তা নিয়ে তাঁর মতামত নিচে তুলে ধরা হলো।

প্রত্যাহারের মূল কারণগুলো

গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের ঘটনা নতুন কিছু নয়; এটি সবসময় কমবেশি ঘটে আসছে। এখন প্রশ্ন হলো, কেন গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়, এখানেই আমাদের মূল নজর দেওয়া দরকার। মূলত দুটি কারণে এটি হতে পারে। প্রথমত, অনেক সময় আমরা যাকে ইনস্ট্রুমেন্টাল এরর বা অ্যানালিটিক্যাল এরর বলি অর্থাৎ যন্ত্রপাতি বা বিশ্লেষণে ভুল হওয়া—এমন ক্ষেত্রে ভুল হলে তা সংশোধন করা যায় এবং এতে দোষের কিছু নেই। দ্বিতীয়ত, যখন আমরা অনৈতিকভাবে কাজ করি। যেমন প্রকৃতপক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই ডেটা বানিয়ে ফেলা বা ডেটার যা নেই তা ফলসিফিকেশন করা, তখন সেটি অপরাধ।

যখন কোনো গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়, তখন তার সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা থাকে। এই কারণের ওপর নির্ভর করে বিষয়টি কতটা গুরুতর, তা বোঝা যায়।

এছাড়া এখন কিছু চক্র সক্রিয় আছে, যাদের বলা হয় 'পেপার মিল' চক্র। এই চক্রগুলোর মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বা অনৈতিক উপায়ে পেপার সাজানো হয়। ফলে প্রকৃত গবেষণা হয় না, কিন্তু গবেষণা হয়ে যায়। এই ধরনের সব কর্মকাণ্ডই অনৈতিক।

সংখ্যা নয়, গুণগত মানের ওপর জোর

এ বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। যেহেতু আমাদের এখানে এখনো এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে আমাদের এখনই এ নিয়ে চিন্তা করা দরকার। যত বেশি এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, দেশের গবেষণার মর্যাদা তত কমবে। এটি যেন ভবিষ্যতে না বাড়ে, সে জন্য এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সংখ্যাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখান থেকেই আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার। সংখ্যা নয়, গুণগত মানের ওপর জোর দিতে হবে। সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে অনেক সময় দেখা যায়, এত দ্রুতগতিতে গবেষণা করা হচ্ছে যে সেটা আর ভালো মানের হয় না। তাই সংখ্যার ওপর জোর না দিয়ে ভালো মানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রেও সংখ্যাগত মানের চেয়ে গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

শাস্তির ব্যবস্থা ও নীতিমালা প্রয়োজন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় এ ধরনের অপকর্ম করার পর শাস্তির বিধান নেই। ফলে গবেষণার জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও লঘুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে একজন শিক্ষককে। উপাচার্য নিজেই বলেছেন, তাঁদের নীতিমালায় এই ধরনের অপকর্মের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই। তাহলে এ ধরনের অপরাধ কীভাবে নির্মূল করা যাবে?

নৈতিক স্খলনকে যদি আমরা বিস্তৃত অর্থে ধরি, তাহলে গবেষণা জালিয়াতি করা বা অনৈতিক কাজ করাও একধরনের নৈতিক স্খলন।

বর্তমান আইনেও নৈতিক স্খলনের বিধান রয়েছে। সেই আলোকে এটিকে বিচার করা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত রিট্রাকশন-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। অর্থাৎ এটি করলে কী হবে, কী ধরনের শাস্তি হবে—তা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই নীতিমালা নেই। এটি করতে হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে এগিয়ে আসতে হবে। ভারতে এ ধরনের নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। আমরাও তেমন একটি নীতিমালা করতে পারি। চীনে 'মিনিস্ট্রি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'তে এই বিষয়গুলো মনিটরিং করে এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত এমন কিছু করা হয়নি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের প্রধান কারণ কী? গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের দুটি প্রধান কারণ হলো—যন্ত্রপাতি বা বিশ্লেষণে ভুল হওয়া এবং অনৈতিকভাবে ডেটা বানানো বা ফলসিফিকেশন করা।

পেপার মিল চক্র কী? পেপার মিল চক্র হলো এমন কিছু সংস্থা বা গোষ্ঠী যা টাকার বিনিময়ে বা অনৈতিক উপায়ে গবেষণাপত্র সাজিয়ে দেয়, ফলে প্রকৃত গবেষণা না হয়েও গবেষণা হয়ে যায়।

গবেষণা জালিয়াতির জন্য শাস্তির ব্যবস্থা আছে কি? বর্তমানে আমাদের দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই রিট্রাকশন-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। তবে বর্তমান আইনে নৈতিক স্খলনের বিধান রয়েছে, সেই আলোকে এটিকে বিচার করা যায়।

ভবিষ্যতে কী করা প্রয়োজন? বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে এগিয়ে এসে ভারত ও চীনের মতো একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে গবেষণা জালিয়াতির জন্য স্পষ্ট শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is গব ষণ য় স খ য গত?

গব ষণ য় স খ য গত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does গব ষণ য় স খ য গত matter?

গব ষণ য় স খ য গত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.