স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ফেনীর জনসভায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
Banglajibon.com – স ব র চ র এব গ - ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি ও ‘গুপ্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা গোষ্ঠী আবারও একত্র হয়েছে।
“আজকে তারা এবং ওরা—যারা পালিয়ে গেছে—ওরা এবং এই গুপ্ত। এই স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী শক্তি দেশ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ওই গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য তাদের ফিরে আসা, থাকা ও কাজ করা নিয়ে আপত্তি না থাকার কথা বলেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, এই অবস্থান নতুন নয়; অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা দেখা গেছে।
তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই শক্তিগুলো সেসব সময়েও একসঙ্গে ছিল। গত নির্বাচনের সময়ও তারা আড়ালে থেকে একই উদ্দেশ্যে কাজ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত ১৭ বছরের নির্যাতনের প্রসঙ্গ
বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালানোর অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দলের বহু নেতা-কর্মী জেল-জুলুম, হত্যা এবং গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, যারা এখন রাজনৈতিক দাবিদাওয়া নিয়ে সক্রিয়, তারা সে সময় নির্যাতিতদের পাশে কতটা ছিল।
“বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যা, গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে। শুনেছেন তাদের কেউ এসবের শিকার হয়েছিল? আপনারাও তো মাঠে নেমে এসেছিলেন, হরতাল, মিছিল-মিটিং করেছিলেন, তাদের কাউকে দেখেছিলেন?”
তারেক রহমান বলেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ওই গোষ্ঠীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। তিনি দাবি করেন, তারা প্রকাশ্যে সক্রিয় না থাকলেও ভেতরে ভেতরে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়েছে। এ কারণেই তাদের ‘গুপ্ত’ বলা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অরাজকতার অভিযোগ ও ‘এক দফা’ দাবি
দেশে কিছু মানুষ পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও জনসভায় অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, তাঁরা এমন তৎপরতা লক্ষ করেছেন কি না। বিশেষ করে ‘এক দফা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে চলা বক্তব্য ও কর্মসূচি নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনাকে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তাঁর মতে, এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য খেটে খাওয়া মানুষ, নিম্নআয়ের পরিবার, কৃষক ও সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা এক দফার কথা বলছে অথবা যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনকল্যাণমুখী কী পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের সহায়তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করার মতো পরিকল্পনার উদাহরণ দেন তিনি।
“যারা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল—এদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? এদের কি কৃষক কার্ড আছে? এদের দলের কর্মসূচির মধ্যে কি ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা আছে?”
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন দেখতে চায়। তাঁর মতে, আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের কাছে ধারাবাহিক সহায়তা পৌঁছানো গেলে তাদের জীবনযাত্রায় ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সেই পরিবর্তন ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদের সহায়তা দেওয়া, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের ন্যূনতম সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ধীরে ধীরে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে বলে তাঁর বক্তব্য।
“বাংলাদেশের মানুষ যখন সচ্ছল হয়ে উঠবে, তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠবে।”
বিএনপির পরিকল্পনার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী চালু, খাল খনন এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে এ ধরনের উদ্যোগ রয়েছে কি না, তা জনগণের বিবেচনা করা উচিত।
দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা যারা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত মুয়াজ্জিনদের কাছেও এ বিষয়ে মতামত জানতে চান।
ফেনী সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি
জনসভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানীও প্রদান করা হয়। এসব কার্যক্রমকে মানুষের কাছে সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় পর্যায়ে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত এই কার্যক্রম সফরের অন্যতম কর্মসূচি ছিল।
ফেনী সফরের শুরুতে বেলা আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামে যান। সেখানে তিনি মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
একদিনের সফরে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক সহায়তা, কৃষি, সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মসূচি সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এসব উদ্যোগকে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স ব র চ র এব গ?স ব র চ র এব গ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স ব র চ র এব গ matter?স ব র চ র এব গ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.