Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সুপ্রিম কোর্টের ভবন নির্মাণ: প্রকল্পের অনুমোদন ছাড়াই ৬ কোটি টাকা পরিশোধ

Published September 10, 2026 · Updated September 10, 2026 · By Betty Thomas - banglajibon.com

Foto : Betty Thomas - banglajibon.com

অনুমোদন ছাড়াই ভাগ করা প্যাকেজে সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন প্রকল্পে কোটি টাকার বিল

Banglajibon.com – স প র ম ক র ট - বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে নির্ধারিত মূল কাজকে অনুমতি ছাড়া একাধিক খণ্ডে ভাগ করে অর্থ পরিশোধের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আটটি পৃথক প্যাকেজের নামে বিভিন্ন ঠিকাদারকে প্রায় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বিল দেওয়া হয়েছে, যদিও এর মধ্যে চারটি প্যাকেজে কাজের দৃশ্যমান অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ কার্যালয়ে বুধবার অভিযান চালিয়ে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক যাচাইয়ে উঠে আসে, প্রকল্পের অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে এসব প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছিল। দুদক সচিব সাইদুর রহমান খানও অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মূল প্রকল্পের ব্যয় ও কার্যাদেশ

‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত মোট ব্যয় ২ হাজার ৭৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মূলধন ব্যয়ের অনাবাসিক ভবন খাতের ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কাজ ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে, সংক্ষেপে এনডিইএলকে, দেওয়া হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই কার্যাদেশের মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই মূল কাজের বাইরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও আটটি প্যাকেজ খোলা হয়।

এই নতুন প্যাকেজগুলোর জন্য ডিপিপি, সংশোধিত ডিপিপি বা আরডিপিপি এবং ক্রয়কারী সংস্থার প্রধানের অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে। অথচ পরে এসব প্যাকেজের বিপরীতে বিল তৈরি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরকারি অর্থ ছাড় করা হয়। আইবাস প্লাস প্লাসে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য দেখা গেলেও দুদকের হিসাব অনুযায়ী পরিশোধিত অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

চার প্যাকেজে মিলেনি কাজের চিহ্ন

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর প্যাকেজ নিয়ে। এনফোর্সমেন্ট টিম সরেজমিন পরিদর্শনে এসব কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। শুধু নির্মাণ বা সংশ্লিষ্ট কাজের চিহ্নই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলও পাওয়া যায়নি।

দুদকের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই চার প্যাকেজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে করা চুক্তিপত্র এবং কাজের পরিমাণ নির্ধারণের পরিমাপ বই ছিল না। সরকারি প্রকল্পে কাজ কতটুকু হয়েছে, কোন উপকরণ ব্যবহৃত হয়েছে এবং বিলের অঙ্ক যুক্তিসংগত কি না যাচাইয়ের জন্য পরিমাপ বই গুরুত্বপূর্ণ নথি। এমন নথি না থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

মূল ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কাজকে নিয়মের বাইরে আট ভাগে বিভক্ত করে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কোথাও কোথাও কাজের বাস্তব উপস্থিতি না মিললেও অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর প্যাকেজে কিছু কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে ওই কাজগুলো তালিকাভুক্ত প্যাকেজের ঠিকাদাররা করেছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দাখিল করা তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এসব কাজ মূল ঠিকাদার এনডিইএলই করেছে। এনডিইএলের চুক্তিপত্র ও পরিমাপ বই পর্যালোচনাতেও সেই তথ্যের সমর্থন মিলেছে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন ধরনের কাজ ছিল প্যাকেজগুলোতে

আটটি প্যাকেজে নানা ধরনের নির্মাণ, অস্থায়ী অবকাঠামো ও সহায়ক কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ছিল সুপ্রিম কোর্টের জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পাশে নতুন বেকারি ও ক্যানটিন নির্মাণ, রেকর্ড ভবনের তিনটি বেসমেন্ট নির্মাণের জন্য অস্থায়ী ট্রিপল কাজ এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল সংস্কার।

কিছু প্যাকেজে ব্র্যান্ডিং ও ক্যাটারিংয়ের কাজও ছিল। পাশাপাশি ভাঙা গাইড ওয়াল, মাস্টার ড্রেন, র‌্যাম্প এবং উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক লাইন অপসারণের কথা বলা হয়। অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ, অস্থায়ী ড্রেন ও ঢেউটিনের বেড়া স্থাপন, বালু ভরাট, বৃষ্টির পানি সরানোর ব্যবস্থা এবং আবর্জনা অপসারণও প্যাকেজগুলোর আওতায় ছিল।

এই কাজগুলোর একটি অংশ মূল ডব্লিউ-১ প্যাকেজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় নতুন করে আলাদা প্যাকেজ তৈরির প্রয়োজনীয়তা ও আইনগত ভিত্তি তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। প্রকল্প অনুমোদনের বাইরে কাজ ভাগ করা হলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং জবাবদিহির কাঠামো দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

প্যাকেজের মূল্য ও দরপত্র অনুমোদনের প্রশ্ন

দুদকের নথিতে দেখা যায়, রাশা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ প্যাকেজটির মূল্য ছিল ১ কোটি ৯৪ হাজার টাকা, যা আটটির মধ্যে সর্বোচ্চ। কর্ণফুলী কনস্ট্রাকশনকে ৯৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকার এবং স্বদেশ ডেভেলপমেন্টকে ৯৯ লাখ ২১ হাজার টাকার প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল।

৬ নম্বর প্যাকেজের মূল্যও ছিল ১ কোটি ৯৪ হাজার টাকা। এই প্যাকেজের দরপত্র অনুমোদনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় বিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসেছে। আর্থিক ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত বিধান অনুসারে ১ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত দরপত্র অনুমোদনের ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর। কিন্তু ৬ নম্বর প্যাকেজে ওই পর্যায়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

ই-জিপি ব্যবস্থায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রকল্পের অনুমোদিত নথি ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়া কাজ ভাগ করার অভিযোগটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। ই-জিপি কেবল দরপত্র পরিচালনার একটি ব্যবস্থা; প্রকল্পের কাজ, ব্যয় এবং প্যাকেজ কাঠামো অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা এর মাধ্যমে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুপারিশ

এ ঘটনায় তৎকালীন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় তাঁর বক্তব্য বা ব্যাখ্যা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দুদক। ফলে তাঁর অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পরবর্তী তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

দুদকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সরকারি অর্থের ক্ষতি ও আত্মসাতের আলামত পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। অনিয়মে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত ছিলেন কি না, কোন পর্যায়ে বিল অনুমোদন হয়েছে, অর্থ কারা গ্রহণ করেছে এবং বিনিময়ে বাস্তবে কী কাজ হয়েছে—এসব বিষয় যাচাই ছাড়া পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন কমিশনে উপস্থাপন করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুপারিশ করা হবে। তদন্তে বিশেষভাবে দেখা হবে, কাজ না থাকলে কীভাবে বিল প্রস্তুত ও পরিশোধ করা হলো, কারা এর সুবিধাভোগী এবং রাষ্ট্রের প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির অঙ্ক কত।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স প র ম ক র ট?

স প র ম ক র ট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স প র ম ক র ট matter?

স প র ম ক র ট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.