National

র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

Foto : Betty Thomas - banglajibon.com
Table of Contents
  1. র‍্যাবের বদলে এসআরবি: নতুন আইনে নাগরিক অভিযোগের সুযোগ ও জবাবদিহি
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

র‍্যাবের বদলে এসআরবি: নতুন আইনে নাগরিক অভিযোগের সুযোগ ও জবাবদিহি

Banglajibon.com – র য ব র বদল আসছ এসআরব – দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পর সরকার র‍্যাবের বদলে এসআরবি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন বাহিনী গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে। এই র‍্যাবের বদলে এসআরবি পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা করা। নতুন আইনে সাধারণ নাগরিকরা এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যায্য আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা হারানির অভিযোগ করতে পারবেন। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন করা হবে।

খসড়া আইন ও জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬ এর খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এই খসড়া অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, প্রকাশিত খসড়ার ওপর যেসব মতামত আসবে সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও নিষেধাজ্ঞা

র‍্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ার, গুম, হেফাজতে নির্যাতন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়া আইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আইনটি কার্যকর হলে র‍্যাবের বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে র‍্যাবের বিদ্যমান বিধান কার্যকর থাকবে।

এসআরবির কাঠামো ও দায়িত্ব

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর প্রধান থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্যদের প্রেষণে এনে বাহিনীটি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাহিনীর নাম পরিবর্তন হলেও দায়িত্বের পরিধিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ ও সাইবার অপরাধ দমন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে রাখা হয়েছে। আদালত, সরকার কিংবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির।

অভিযোগ প্রতিকার কমিটি ও শৃঙ্খলাবিধি

খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি। এই কমিটি সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রস্তাবে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করা হবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি। বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, হারানি, অনিয়ম, অবৈধ প্রভাব বিস্তার, পদোন্নতি বা পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগও পর্যালোচনা করতে পারবে তারা। খসড়া আইনে সদস্যদের জন্য বিস্তারিত শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো সদস্য পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের আবেদনের ভিত্তিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবির কাছে হস্তান্তর করবেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন: র‍্যাবের বদলে এসআরবি কেন আসছে? উত্তর: র‍্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, ক্রসফায়ার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য র‍্যাবের বদলে এসআরবি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: এসআরবি কীভাবে গঠিত হবে? উত্তর: এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গঠিত হবে। এর প্রধান থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়।

প্রশ্ন: নাগরিকরা কীভাবে অভিযোগ করতে পারবেন? উত্তর: নতুন আইনে সাধারণ নাগরিকরা এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যায্য আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা হারানির অভিযোগ করতে পারবেন। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন করা হবে।

প্রশ্ন: খসড়া আইন কখন কার্যকর হবে? উত্তর: খসড়া আইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।

Frequently Asked Questions

What is র য ব র বদল আসছ এসআরব?

র য ব র বদল আসছ এসআরব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does র য ব র বদল আসছ এসআরব matter?

র য ব র বদল আসছ এসআরব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment