ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি, ত্রিমুখী তদন্তের মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম
ভ য় ম ক ত য দ – ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি করছেন মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং গোয়েন্দা সংস্থা সহ তিনটি সংস্থা এখন তাঁর প্রতি তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর বাবা মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে তিনি চাকরি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদোন্নতি করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা যাচাই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, শরিফুল ইসলাম ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি বেবিচকে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সদর দপ্তরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সনদের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নাম উঠেছে
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নাম উঠে আসে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাঁকে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নিয়মিত তদন্ত চলছে এবং সম্প্রতি কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা নথিপত্র যাচাই-বাছাই করছি। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত এগোচ্ছে। শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলামের নাম অনেক ঠিকাদার দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, ফাইল এগোতে টাকা লাগে। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়। মুক্তিযোদ্ধা সনদের ভুয়াতা তদন্ত এখন পর্যন্ত এগিয়েছে এবং তাঁর আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ সম্প্রতি নথিভুক্ত হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, শরিফুল ইসলামের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে বেবিচকে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া স্মৃতিজনক। অবিলম্বে কোটাল পদে তাঁকে যুক্ত করা হয়েছিল। এখন তাঁর সিভিল পদে উন্নীত হওয়া এবং বেবিচকের আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আ
