Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বিচারপতি-অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্র বাতিল চেয়ে রিট

Published September 13, 2026 · Updated September 13, 2026 · By Jennifer Jones - banglajibon.com

Foto : Jennifer Jones - banglajibon.com

বিচার বিভাগসংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্র বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

Banglajibon.com – ব চ রপত অ য টর ন - সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিরাপত্তা হ্রাসের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও কার্যকর পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী।

রোববার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ১০ জনের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন। এতে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রতিপক্ষ করা হয়েছে। আবেদনে ২৭ আগস্ট জারি হওয়া পরিপত্রটি বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

যাঁরা রিট আবেদন করেছেন

রিটে আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শানেওয়াস, অ্যাডভোকেট ছাব্বির রহমান এবং অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান। তাঁদের সঙ্গে আবেদনকারী হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত সুরক্ষার প্রশ্ন নয়। বিচারিক কাজ স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা, আদালতের মর্যাদা রক্ষা এবং দায়িত্ব পালনে অযাচিত চাপ বা ঝুঁকি এড়ানোর সঙ্গেও এটি যুক্ত। এ কারণেই তাঁরা পরিপত্রটি আইনসম্মত কি না, সেই প্রশ্ন আদালতের সামনে এনেছেন।

পরিপত্র নিয়ে আইনি আপত্তি

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ আগস্টের পরিপত্রটি বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গেও এর বিরোধ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও সরকারি পদধারীর আনুষ্ঠানিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি কাঠামো। তবে রিটকারীদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে বিচার বিভাগসংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং সেই পরিবর্তনের আইনি ভিত্তি। তাঁদের মতে, এমন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে প্রচলিত আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভারসাম্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

রিটে আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার পৃথক্করণ নীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর প্রশ্নও এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক বলে আবেদনকারীরা উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের পারস্পরিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এই যুক্তির ওপরই তাঁদের আবেদন দাঁড়িয়েছে।

আগের পরিপত্র ও আদালতের পদক্ষেপ

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, একই ধরনের একটি পরিস্থিতি এর আগেও তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২ মার্চ অনুরূপ একটি পরিপত্র জারি হওয়ার পর হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এর কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন। তখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

পরে সেই পরিপত্র বাতিল করা হয়েছিল। রিটকারীদের ভাষ্য, আদালতের ওই অবস্থান ও নির্দেশনার পরও নতুন করে একই ধরনের নিরাপত্তা-হ্রাসসংক্রান্ত পরিপত্র জারি হওয়ায় বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আগের ঘটনাপ্রবাহকে সামনে এনে আবেদনকারীরা বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিষয়টি বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, এর আগে আদালত নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে হস্তক্ষেপ করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন। নতুন রিটে তাই পূর্বের বিচারিক নির্দেশনার গুরুত্বও আলোচনায় এসেছে।

কেন নিরাপত্তা প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ

বিচারপতি ও আইন কর্মকর্তারা এমন সব বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেন, যেগুলোর সঙ্গে জনস্বার্থ, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, অধিকার এবং আইন প্রয়োগের প্রশ্ন জড়িত থাকতে পারে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও কার্যকর রাখতে দায়িত্বশীলদের নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যে কোনো পরিবর্তন তাই শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; তা বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।

রিটকারীদের যুক্তিতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে নির্বাহী ও বিচার বিভাগের দায়িত্বের সীমারেখা স্পষ্ট থাকা দরকার। ক্ষমতার পৃথক্করণ নীতির অর্থ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করবে এবং এক অঙ্গ অন্যটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে অযৌক্তিক প্রভাব ফেলবে না। নিরাপত্তার মতো একটি বিষয়ও সেই নীতির আলোকে মূল্যায়নের দাবি রাখে বলে তাঁরা মনে করছেন।

আদালতের সামনে কী প্রশ্ন

রিট আবেদনটি মূলত কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে: নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্র জারির আইনগত ভিত্তি কী, তা প্রচলিত অগ্রাধিকার কাঠামো ও আপিল বিভাগের রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, এবং পূর্বে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন সিদ্ধান্তটি গ্রহণযোগ্য কি না।

আদালত রিটটি শুনানির জন্য গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, পরিপত্রের উদ্দেশ্য এবং তার বাস্তব প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বের পরিধিও স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকবে।

বর্তমান আবেদনের মাধ্যমে আবেদনকারীরা ২৭ আগস্টের পরিপত্র বাতিলের নির্দেশনা চেয়েছেন। তাঁদের অবস্থান হলো, নিরাপত্তা কমানোর এ উদ্যোগ বহাল থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এখন বিষয়টি আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব চ রপত অ য টর ন?

ব চ রপত অ য টর ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব চ রপত অ য টর ন matter?

ব চ রপত অ য টর ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.