National

নারী ও শিশু নির্যাতন: মামলায় সাজা কম খালাসের হার বেশি

নারী ও শিশু নির্যাতন: বিচার প্রক্রিয়ার হার বেশি আছে না সাজা

ন র ও শ শ ন র – সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত দশকে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫ হাজার ৫৯৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্ষণের পর নিহত হয়েছে কমপক্ষে ২৭৪ জন। কিন্তু মামলাগুলো বেশির ভাগে বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি এবং অনেক আসামি খালাস পেয়েছে।

মামলাগুলোর সমাপ্তি প্রায় দুর্বল

১৯ মে পাবনায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সাথে সিলেটে এক চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ে চার বছর বয়সী এক মেয়েকে ধর্ষণের পর নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মুন্সিগঞ্জে এক দিন পর অন্য শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে। চট্টগ্রামে গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল দুই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ জুড়েছে। বৃহস্পতিবার ঘটনায় মানুষ অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

২০২৫ সালের ৫ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডে আদেশ দেয়। কিন্তু হাইকোর্টে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এই ঘটনার পর পল্লবীতে এক ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি মানুষকে প্রবল আঘাত করেছে।

“শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শাস্তি কার্যকর হওয়ার নজির খুব কম। এ কারণে অপরাধীরা আশা করে তারা শেষ পর্যন্ত রেহাই পেয়ে যাবে,” বলেন মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে মন্তব্য করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী শাহীন আনাম।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে কমপক্ষে ১ হাজার ২৮ জন নারী ও মেয়েশিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে। তার মধ্যে মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৪৭৯টি ঘটনা ঘটেছে। এ সাথে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে আরও ১৫৩ জন শিশু।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের যৌথ গবেষণার মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামি খালাস পেয়েছে। বর্তমানে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে কমপক্ষে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৫০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ৪২ হাজার ২৭২টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগেও অনেক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলেছে বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা। তাদের মতে, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামি রেহাই পেয়ে যায়। সামাজিক চাপ ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া দুর্�

Leave a Comment