Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ফের বাড়ল

Published Agustus 13, 2026 · Updated Agustus 13, 2026 · By Michael Williams - banglajibon.com

Foto : Michael Williams - banglajibon.com

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: এলএনজি টার্মিনাল সমস্যায় দেশে লোডশেডিং

Banglajibon.com – গ য স ব দ য ত - গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট পুনরায় তীব্র হয়েছে। গতকাল বুধবার সারা দেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ হওয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা বেড়েছে। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের চুলা দিনের বেশির ভাগ সময়েই জ্বলছে না। রাজধানীসহ সারা দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং করা হচ্ছে। শহরের চেয়ে গ্রামে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেশি। গ্রামে ১০-১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

এলএনজি সরবরাহে ব্যাঘাত ও জ্বালানি সংকটের কারণ

সূত্র বলেছে, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে দেশে গ্যাস-সংকট আবার তীব্র হয়েছে। গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিং বাড়ানোর পাশাপাশি গতকাল বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সারা দেশে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর আবেদন করেছে। সমিতি বিষয়টি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কেও জানিয়েছে।

সচিবালয়ে দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের বলেন, সন্ধ্যা (বুধবার) থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে জ্বালানিসংকট আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা ও বৈরী আবহাওয়া। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করার চেষ্টা চলছে।

এলএনজি সরবরাহ কমে দৈনিক ৩৫০-৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবারের তুলনায় গতকাল এলএনজি সরবরাহ আরও ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে দৈনিক গড়ে ৩৫০-৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। ফলে সঞ্চালন লাইনে সার্বিক সরবরাহ দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের চেয়েও কমে গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল হওয়ার একটি এলএনজি টার্মিনালে এলএনজি কার্গো ভেড়াানো যাচ্ছে না। অপর টার্মিনালে কার্গো ভেড়াানো থাকলেও এর মজুত শেষ হয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে এলএনজি সরবরাহ ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে।

নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

সূত্র জানায়, এই সংকটের মধ্যেও বিদ্যুতের উৎপাদনে জোর দিতে গিয়ে বাসাবাড়ি, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও গ্রামাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও বন্ধ রাখা হয়েছে। নোয়াখালী অঞ্চলে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে জেলার প্রায় ২৯ হাজার ৩৫০ জন গ্রাহক। বন্ধ রয়েছে সাতটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন। বাখরাবাদ গ্যাসের নোয়াখালীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ব্যবস্থাপক নূর করিম জানান, এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার কারণে দুপুর ১২টা থেকে ফেনী গ্রিড থেকে প্রধান লাইনে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত ও লোডশেডিং বৃদ্ধি

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, গত সপ্তাহে গ্যাসের সংকট থাকলেও বাসার চুলাগুলোতে কিছুটা জ্বলত। কিন্তু গতকাল দুপুর থেকে চুলা জ্বলছে না। গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট প্রাক্কলন করা হলেও গত মঙ্গলবার রাত ৯টা (ইভনিং পিক) তা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তবে গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ওই সময়ে উৎপাদন ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট। ফলে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।

গতকাল পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময়ে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার মেগাওয়াটের ঘরে। ফলে দিনে-রাতে গড়ে কমপক্ষে দুই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট (২৫ থেকে ৩০ শতাংশ) বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ সারা দেশেই। রাজধানীর অনেকে এলাকায় এক ঘণ্টা করে পাঁচ-ছয়বার, আবার কোথাও এক ঘণ্টা বা আধা ঘণ্টা করে দুই থেকে তিনবার লোডশেডিং হয়। কিন্তু জেলা, উপজেলা শহর এবং গ্রামাঞ্চলে দিনে ১০-১৫ ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে বিশেষ করে গ্রামে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে আবেদন ও পুলিশ টহল

ফলে বিশেষ করে গ্রামে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা মিছিল করেছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তা জোরদারে থানায় আবেদন করেছেন। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সারা দেশে তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করতে গতকাল আইজিপি বরাবর আবেদন করে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কেও তারা বিষয়টি জানিয়েছে।

আইজিপিকে দেওয়া সমিতির আবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানিসংকট ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া সরবরাহ কম হচ্ছে। ফলে সারা দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অত্যধিক লোডশেডিংয়ের কারণে জনরোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র অফিসগুলো হামলা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে আইজিপিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রধান কারণ কী? বঙ্গোপসাগর উত্তাল হওয়ায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিগত সরকারের নীতিগত ভুল ও বৈরী আবহাওয়াও সংকট তীব্র করেছে।

এলএনজি সরবরাহ কতটা কমেছে? গত মঙ্গলবারের তুলনায় এলএনজি সরবরাহ ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে দৈনিক গড়ে ৩৫০-৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। সঞ্চালন লাইনে সার্বিক সরবরাহ দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের চেয়েও কম।

নোয়াখালীতে গ্যাস কতদিন বন্ধ থাকবে? নোয়াখালীতে দুপুর ১২টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

গ্রামে লোডশেডিং কেন বেশি? গ্রামাঞ্চলে দিনে ১০-১৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে, যা শহরের চেয়ে অনেক বেশি। এর কারণে গ্রামে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে এবং অনেক এলাকায়

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is গ য স ব দ য ত?

গ য স ব দ য ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does গ য স ব দ য ত matter?

গ য স ব দ য ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.