বিশ্বের দুঃখীতম দেশ আফগানিস্তান, বাংলাদেশের অবস্থান কত?
বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ
প থ ব র ব ষণ নতম – যখন আমরা কোনো দেশের অগ্রগতি বা শক্তির কথা বিবেচনা করি, সেখানে প্রথম দিকে বিবেচিত হয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি। কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে কতটা সন্তুষ্টি রয়েছে, তা মূল্যায়নের জন্য বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন একটি মূল্যায়ন প্রণালী। এই তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে অসুখী দেশগুলির একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে আফগানিস্তানের নাম শীর্ষে উঠে এসেছে।
বিশ্ব সুখ প্রতিবেদনটি গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোলের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এতে অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি পরিমাপ করা হয় একটি নির্দিষ্ট স্কেলে। ক্যান্ট্রিল ল্যাডার নামে পরিচিত এই স্কেলে শূন্য মানে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এবং ১০ মানে সবচেয়ে সেরা অবস্থা। প্রতিবেদনে গড় মূল্যায়ন বিবেচনা করে তিন বছরের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের স্কোর সবচেয়ে কম হয়েছে যেহেতু দেশটি মাত্র ১.৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এই তালিকায় নাম আসা দেশগুলির মানচিত্র দেখলে একটি দুঃখজনক সত্য সামনে আসে। বিশ্বের মানচিত্রে সুখের বণ্টন মোটেও সমান নয়। এখানে প্রায় ২০টি দেশ সাব-সাহারান ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের মধ্যে দেখা যায়। এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত।
একটি দেশের সুউচ্চ ভবন কিংবা জিডিপির গ্রাফ কখনোই মানুষের প্রকৃত হাসির নিশ্চয়তা দিতে পারে না। যদি না সেখানে নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও স্বস্তির অধিকার নিশ্চিত করা যায়।
বাংলাদেশের অবস্থান ও স্কোর
বাংলাদেশের অবস্থান এই তালিকায় ২৯টি দুঃখী দেশের মধ্যে ২১ তম। এই দেশটি স্কোর নিয়ে ৪.৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এই প্রতিবেদনে একটি প্রধান প্রশ্ন উঠছে— কেন দুটি মহাদেশের বেশি দেশ নিচে থাকছে? তথ্য বিশ্লেষণ করলে এ পেছনে তিনটি ভিন্ন আঙ্গিক কারণ বিশ্লেষিত হয়।
আফগানিস্তান যেহেতু মানুষের দৈনন্দিন স্বস্তির কারণে তালিকার নিচে রয়েছে। সেখানে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মানবাধিকারের ওপর যে তীব্র বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা পুরো একটি জনগোষ্ঠীর আশা শেষ করেছে। অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক অস্থিরতা প্রতিদিনের স্বস্তি দূরে সরেছে। এই প্রতিবেদন আরও বোঝায় সামষ্টিক অর্থনীতির উন্নতি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের পকেটে সুফল না পৌঁছানোয় দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি ভর।
