Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

তিনবার ব্যর্থতার পর প্রশাসন ক্যাডারে জাহেদ

Published Agustus 15, 2026 · Updated Agustus 15, 2026 · By Jennifer Jones - banglajibon.com

Foto : Jennifer Jones - banglajibon.com

প্রশাসন ক্যাডারে জাহেদ: তিনবার ব্যর্থতার পর সাফল্যের গল্প

Banglajibon.com – ত নব র ব যর থত র - মো. জাহেদ হাসান নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার এক দূরবর্তী গ্রাম থেকে এসেছেন। তাঁর বাবা একজন কৃষক আর মা একজন গৃহিণী। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনিই বড়। শৈশবকালীন দিনগুলোতে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানো, বর্ষাকালে বিলে মাছ ধরা এবং পুকুরে সাঁতার কাটা তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস ছিল। সন্ধ্যায় হারিকেন বা কুপির আলো জ্বালিয়ে পড়া তাঁর কাছে স্বাভাবিক ছিল, কারণ তখন বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না।

শিক্ষাজীবন ও বিশ্ববিদ্যালয়

গ্রামের নূরপুর মালঞ্চি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজে। সেখানে মেসে থেকে পড়াশোনা করতেন। ২০১২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ মেলেনি। অবশেষে ২০১৩ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০১৭ সালে স্নাতক এবং ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি নিজের খরচ চালাতে টিউশনি শুরু করেন। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী বাড়লে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে রুম ভাড়া নিয়ে ব্যাচ আকারে পড়ানো শুরু করেন। তখন চিন্তাভাবনা শুধু টিউশনি নিয়েই ছিল; আয়ও বেশ ভালো হতো। কিন্তু ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

করোনা ও বিসিএসের স্বপ্ন

২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে সব টিউশনি বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি বেকার হয়ে পড়েন। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ৪০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। তখন অনেক বন্ধু পাস করে ক্যাডার হওয়ার পথে এগিয়ে গেলে তাঁর মনেও বিসিএসের স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করে। এরপর ৪৩তম বিসিএসে জীবনের প্রথম আবেদন করেন। এই ক্ষেত্রে তাঁর বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ ভাই এবং সহধর্মিণী সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেছিলেন।

২০১৭ সালে অনার্স শেষ করে ২০২১ সালে নতুন করে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করা ছিল পাহাড়সম কঠিন। ৪৩তম প্রিলির আগে হাতে খুব কম সময় পেয়েছিলেন। বাজার থেকে এক সেট বই কিনে পড়া শুরু করেন। দীর্ঘদিনের টিউশনির সুবাদে বিজ্ঞান, গণিত ও মানসিক দক্ষতা আলাদা কোনো প্রস্তুতি নিতে হয়নি। অন্য বিষয়গুলো মোটামুটি পড়ে পরীক্ষার এক মাস আগে প্রচুর মডেল টেস্ট দেন, যা মূল পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কস কমাতে ভীষণ সাহায্য করে।

সংগ্রাম ও ত্যাগ

বিসিএস প্রস্তুতির শুরুতে ভালো আয়ের টিউশনিগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। সংসার চালাতে টিউশনির জমানো টাকাই ছিল একমাত্র সম্বল। সন্তান ও পরিবারকে সময় না দিয়ে পড়াশোনায় মগ্ন থাকার জন্য রাতে পড়তেন আর দিনে ঘুমাতেন। আলাদা ঘরে একরকম নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। প্রতিদিন প্রায় ১৩-১৪ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন।

এই দীর্ঘ যাত্রাটি শুধু আমার একা ছিল না: এটি ছিল আমার সহধর্মিণী, ছেলে এবং আমার সম্মিলিত ত্যাগের ফসল।

বিসিএস প্রস্তুতির শুরুতে তিনি কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হননি। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিন থেকে টিউশনি করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয় এবং ২০১৯ সালে প্রথম পুত্রসন্তানের বাবা হন। এত সব দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করা ছিল এক কঠোর জীবনসংগ্রাম।

সুপারিশ ও আনন্দ

৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন ছিল এবং ভাইভাও আশানুরূপ না হওয়ার ফলাফলে তাঁর আলাদা কোনো প্রত্যাশা ছিল না। ফল প্রকাশের প্রায় ২০ মিনিট পর এক সহকর্মী ফোন করে রেজাল্ট প্রকাশের খবর দেন। পিডিএফ ডাউনলোড করে রোল মেলাতেই চোখ আটকে যায়—তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন! মুহূর্তের মধ্যে হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। সব নিশ্চিত হয়ে তিনি ও তাঁর সহধর্মিণী অতীতের সব কষ্টের কথা মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বাবাকে ফোন করে জীবনের এই সবচেয়ে বড় আনন্দের খবরটি জানাই।

৪৩, ৪৪ ও ৪৫তম বিসিএসে কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার না পাওয়া এবং অন্যান্য চাকরির ভাইভা থেকে বারবার খালি হাতে ফেরার হতাশা ঘিরে ধরত। তখন তাঁর সহধর্মিণী সব সময় সাহস ও শক্তি জুগিয়েছে। তাঁর মা-বাবা নিজারা পড়ার সুযোগ পাননি বলে বিসিএস সম্পর্কে খুব বেশি জানতেন না, তবে সব সময় তাঁকে সমর্থন করেছেন।

পরামর্শ

যারা তাঁর মতো সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং টিউশনি করে পড়াশোনা চালাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলব, প্রয়োজনের অতিরিক্ত টিউশনি না করে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার পেছনে সময় দেওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকে নিয়মিত পত্রিকা পড়া, ইংরেজি ও গণিত চর্চা করা এবং মৌলিক বিষয়ভিত্তিক বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। বর্তমানে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর খুব দ্রুতই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ফলে প্রিলি ও লিখিত একসঙ্গে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিভিন্ন পরীক্ষার অংশগ্রহণকারীরা এই অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে পারেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ত নব র ব যর থত র?

ত নব র ব যর থত র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ত নব র ব যর থত র matter?

ত নব র ব যর থত র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.