Islam

যে নারীদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

যে নারীদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

য ন র দ র ওপর ক – কোরবানি ইসলামের একটি প্রধান ইবাদত হিসেবে পরিচিত। সাধারণত মনে হয় যে, এই কাজ কেবল পরিবারের পুরুষ বা আয় পাওয়া ব্যক্তির দ্বারা সম্পন্ন হয়। অনেক নারী মনে করেন যে তাঁদের কোন ব্যক্তিগত আয় নেই বলে কোরবানি করার কোন দায়িত্ব তাঁদের ওপর পড়ে না।

তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী কোরবানি করার দায়িত্ব উপার্জনক্ষমতার উপর নির্ভর করে না। বরং এটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ অর্জন করার ওপর ভিত্তি করে প্রযোজ্য। ফাতাওয়ায়ে শামি ও ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া অনুযায়ী, নারীদের জন্য পুরুষ হওয়া একটি আবশ্যক শর্ত নয়। তিনি যদি ঈদুল আজহার তিন দিন (১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত) মৌলিক প্রয়োজনের বেশি সম্পদ অর্জন করেন, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

সম্পদের পরিমাণ যেহেতু সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ হয়, তখন নারী কোরবানি করার দায়িত্ব পাবেন। এই নিসাব গণনায় স্বর্ণালংকার, টাকাপয়সা, গৃহস্থালি বা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের মূল্য হিসাবে গ্রহণ করা হয়।

নিসাব বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পদের বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য ব্যবসা বা জাকাত দেওয়া কোরবানি বিধানে একটি শর্ত নয়। প্রতিটি বছরের কোরবানি দিয়ে সম্পদ পরিমাণের সাথে সম্পর্কিত হয় না।

সমাজে একটি গুরুতর ভুল ধারণা রয়েছে—স্বামী কোরবানি করলে স্ত্রীদের কোরবানির দায়িত্ব পূরণ হয়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী, স্বামীর কোরবানি তাঁর নিজস্ব সম্পদ বেশি হওয়ার ভিত্তিতে করা হয়। স্ত্রী যদি নিজের আলাদা নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তাঁকে নিজের পক্ষ থেকে কোরবানি করতে হবে।

যে নারী স্থায়ীভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদ নিয়ে থাকলেও কোরবানি করতে অসমর্থ হন, তবে তাঁর জন্য দুটি সমাধান রয়েছে। তিনি যদি অবিলম্বে পৃথক কোরবানি করতে বাধ্য না হন, তবে প্রতিটি বছরের কোরবানির বদলে একটি ছাগলের মূল্য গরিবদের দান করে দিতে হবে। তখন তিনি এই দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: আদ-দুররুল মুখতার, ফাতাওয়ায়ে শামি (৬/৩১২), ফাতাওয়ায়ে �

Leave a Comment