যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে বের করে আনতে লবি নিয়োগ করেছিল ইসরায়েল
ইসরায়েলি চিন্তাশীল প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ থেকে প্রস্থান নিয়ে লবিং অভিযান চালায়
Banglajibon.com – য ক তর ষ ট রক জ - ওয়াশিংটনে অবস্থিত একটি বড় লবিং প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে কট্টরপন্থী ইসরায়েলি মিসগাভ ইনস্টিটিউট। এই প্রতিষ্ঠানটি ওয়াশিংটনের লবিং নথি পর্যালোচনা করে জানতে পেরেছে যে, মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স নামক প্রতিষ্ঠানটিকে একটি প্রতিবেদন প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হারেৎজ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রচারের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং কংগ্রেসের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু
মিসগাভের নির্বাহী পরিচালক আশের ফ্রেডম্যান এবং সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান এই প্রতিবেদনের সহ-লেখক। 'ফ্রম ইউএন ব্যুরোক্রেসি টু আমেরিকান গ্লোবাল লিডারশিপ' শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে প্রত্যাহারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেদের স্বার্থ এগিয়ে নিতে ওয়াশিংটনের উচিত জাতিসংঘের বিকল্প বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থা গড়ে তোলা বা সেগুলোর মাধ্যমে কাজ করা।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জাতিসংঘ কাঠামোগতভাবে অর্থবহ কোনো সংস্কার করতে অক্ষম। এতে জাতিসংঘকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করারও অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখকেরা লিখেছেন, 'ইসরায়েলের প্রতি জাতিসংঘের আচরণের চেয়ে কোথাও সংস্থাটির রাজনীতিকরণ ও দ্বৈত মানদণ্ড এত স্পষ্ট নয়।' প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকেও টার্গেট করা হয়েছে।
লবিং চুক্তির বিবরণ
হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসগাভ এক মাসের জন্য মার্কারিকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি করেছিল। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৪ জুলাই। লবিং চুক্তি অনুযায়ী, মার্কারির দায়িত্ব ছিল কংগ্রেসের সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিবেদনটি বিতরণ করা এবং এর দুই লেখককে কংগ্রেস ও ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেওয়া।
এই প্রচারের আওতায় কংগ্রেসের উভয় কক্ষকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল পররাষ্ট্রবিষয়ক, সশস্ত্র বাহিনী এবং অর্থ বরাদ্দসংক্রান্ত কমিটিও। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি), পররাষ্ট্র দপ্তর, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন এবং হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে হারেৎজ জানিয়েছে।
লবিং কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ
লবিং কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে মিসগাভের প্রতিনিধিদের জন্য তিন দিনের একটি ওয়াশিংটন সফরের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। ওই সফরে আইনপ্রণেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, নীতিবিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন থিংকট্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। মিসগাভ জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা ছিল সীমিত পরিসরের এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ফ্রেডম্যানকে ওয়াশিংটনে স্বল্পমেয়াদি সফরের সময় নীতিনির্ধারকদের কাছে গবেষণাটির ফলাফল তুলে ধরতে সহায়তা করা।
মিসগাভ জানিয়েছে, মার্কারি কংগ্রেস ও প্রশাসনের উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রায় পাঁচটি বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিল। এসব বৈঠকে ফ্রেডম্যান প্রতিবেদনটির ফলাফল উপস্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠানটি আরও জোর দিয়ে জানিয়েছে, মার্কারির সঙ্গে তাদের এখন আর কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস
এই লবিং কার্যক্রম এমন এক সময়ে চালানো হচ্ছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বৃহত্তর পরিসরে সরে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করছে। একই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও বজায় রয়েছে। তবে গাজা ও লেবাননের সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত উদ্যোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলি সরকারের মধ্যে মতবিরোধও বাড়ছে।
উল্লেখ্য, গিলাদ এরদান ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ওই সময়ের একটি অংশে তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংস্থাটি এবং এর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের অন্যতম প্রধান সমালোচকে পরিণত হন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা এবং পরবর্তী গাজা যুদ্ধের পর তিনি জাতিসংঘ ও গুতেরেসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা আরও জোরালো করেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনেস্কো এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেন। একই সঙ্গে তিনি ইউএনআরডব্লিউএ-এর অর্থায়ন বন্ধ করেন এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আরও ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ও অর্থায়ন পর্যালোচনার পর দেওয়া ওই নির্দেশের আওতায় জাতিসংঘ ব্যবস্থার ৩১টি সংস্থাও ছিল।
লবিংয়ের এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় প্রকাশ করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে বিদেশি কোনো পক্ষের হয়ে নির্দিষ্ট ধরনের রাজনৈতিক বা প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন করতে হয় এবং তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হয়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is য ক তর ষ ট রক জ?য ক তর ষ ট রক জ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does য ক তর ষ ট রক জ matter?য ক তর ষ ট রক জ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.