Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তির মূল দলিল হারিয়ে ফেলেছে নেপাল

Published Agustus 15, 2026 · Updated Agustus 15, 2026 · By Susan Hernandez - banglajibon.com

Foto : Susan Hernandez - banglajibon.com

নেপাল হারিয়ে ফেলল কি ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির মূল দলিল?

Banglajibon.com – ভ রত র সঙ গ স ম - ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের আইনি ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয় ১৮১৬ সালের ঐতিহাসিক সুগৌলি চুক্তি। কিন্তু এই চুক্তির মূল স্বাক্ষরিত দলিলটি নেপালের কাছে আছে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। দেশটির সরকার এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্যটি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন বিভাগে অনুসন্ধানের পরও চূড়ান্ত ও মূল সনদটির অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। জাতীয় আর্কাইভে কিছু কাগজপত্র থাকলেও সেগুলোই যে আসল সনদপত্র, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

আমাদের কাছে চুক্তিপত্রটি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নেপাল সরকারের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। জাতীয় আর্কাইভে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির দলিল রাখার রেকর্ড দেখা গেলেও সেগুলোই যে আসল এবং মূল সনদপত্র, তা নিয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

এর আগে ২০১৯ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালী দাবি করেছিলেন যে চুক্তির অনুলিপি বা কপিগুলো নেপালের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ১৮১৪ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত চলা অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটিই নেপালের আধুনিক ভৌগোলিক সীমানার মূল আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

সুগৌলি চুক্তির ইতিহাস ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্যারিস ব্র্যাডশ এবং নেপালের রাজা গিরবাণ যুদ্ধ বিক্রম শাহের পক্ষে রাজগুরু গজরাজ মিশ্র এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে সুগৌলি চুক্তিটি ছিল ভারতের স্বাধীনতার আগের সময়ের একটি দলিল। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পররাষ্ট্র সম্পর্ক মূলত অন্যান্য দলিলের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে ভারত-নেপাল সীমান্তব্যবস্থা ১৯৫০ সালের 'ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি' এবং যৌথ দ্বিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপের কারিগরি দলিলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সুগৌলি চুক্তিটি এখনো মৌলিক ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে।

কালাপানি ও সীমান্ত বিরোধের নতুন মোড়

বর্তমানে দুই দেশের সীমানাকেন্দ্রিক মূল বিরোধ গ্রেটার হিমালয়ের কালাপানি অঞ্চল নিয়ে, যা ভারতের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থিত। ২০১৯ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলে নেপাল তাতে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়। কাঠমান্ডুর দাবি অনুযায়ী, ওই অঞ্চল তাদের সুদূরপশ্চিম প্রদেশের দারচুলা জেলার অংশ হিসেবে চিহ্নিত।

ভারত ও চীনের মধ্যে লিম্পিয়াধুরা-লিপুলেখ পাস দিয়ে বাণিজ্যপথ পুনরায় চালুর সমঝোতা হওয়ার পর থেকে ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ নতুন করে তীব্র রূপ নেয়। নেপাল দাবি করে আসছে—লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি তাদের ভূখণ্ড। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান হচ্ছে, এই অঞ্চলগুলো তাদের নিজেদের উত্তরাখন্ড রাজ্যের অংশ।

চলতি বছরের জুনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ দাবি করেন, ভারতের বিরুদ্ধে নেপালের ভূখণ্ড দখলের অব্যাহত অভিযোগের মধ্যেই হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই দেশ নিজেরাও বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানায়, লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ, কালাপানিসহ বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা নিয়ে কাঠমান্ডুর আনুষ্ঠানিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এই অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যাগুলো নিরসন করা হবে বলে জানানো হয়। পরে নেপালের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, তারা সমস্যাটি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত সমাধান চায় এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, 'নেপাল অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের প্রতিবেশী দুই দেশের সমৃদ্ধিকে স্বাগত জানায়। সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সুবিধা এবং একে অপরের বৈধ স্বার্থ ও উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে নেপাল দুই দেশের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।'

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ভ রত র সঙ গ স ম?

ভ রত র সঙ গ স ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ভ রত র সঙ গ স ম matter?

ভ রত র সঙ গ স ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.