পশ্চিম তীরে অননুমোদিত ইসরায়েলি বসতি উচ্ছেদে বিরল নির্দেশ নেতানিয়াহুর
পশ্চিম তীরের বসতি-নীতিতে নেতানিয়াহুর বিরল ঘূর্ণায়মান সিদ্ধান্ত
Banglajibon.com – পশ চ ম ত র অনন ম - ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রোববার রাতে একটি স্পষ্ট আদেশ জারি করেছে: জালুদ গ্রামে বসতিস্থাপনকারীদের হাতে তাড়ানো তিন ফিলিস্তিনি পরিবারকে নিরাপদে তাদের নিজ বাসস্থানে ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বেনিামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ছাড়া তৈরি করা আউটপোস্ট বা অনানুষ্ঠানিক বসতি-স্থাপনা ভেঙে ফেলার আদেশ দেন। দুইজন অবহিত সূত্র রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদেশের পরিসর ও কারিগরি বিবরণ
সূত্রগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নির্দেশের আওতায় পড়ে এমন স্থাপনাগুলো হলো সেই ছোটখাটো কারাভান বা মোবাইল আবাসিক ইউনিট, যেগুলো ইসরায়েলি রাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই বসতিস্থাপনকারীরা স্থাপন করেছেন। সাধারণত এই ধরনের আউটপোস্টে অল্পসংখ্যক মানুষ বসবাস করেন। ইসরায়েলি রাষ্ট্র ইতিহাসে একাধিকবার এ ধরনের স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে; আবার কিছু ক্ষেত্রে একই ধরনের আউটপোস্টকে পরবর্তীতে সরকারি স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে। স্বীকৃতি প্রাপ্তির পর সেগুলো রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের সুযোগ পায়। তবে এই নতুন আদেশের বাস্তবায়ন কবে শুরু হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।
ইসরায়েলি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ইয়েনেটের আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, নেতানিয়াহুর এই নির্দেশের আওতায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় শত আউটপোস্ট রয়েছে। পশ্চিম তীরে যেকোনো আউটপোস্ট উচ্ছেদ অভিযানে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সামরিক বাহিনী উভয়ই জড়িত থাকে। উভয় প্রতিষ্ঠানই মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর দেয়নি।
আমেরিকান চাপ ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
সূত্রগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপই নেতানিয়াহুকে এই সিদ্ধান্তে ঠেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও সামরিক মিত্র। শনিবার ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি শহরে কয়েকজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিকের সঙ্গে বৈঠকের পর এক স্পষ্ট বক্তব্য দেন।
সহিংসতাতে জড়িত ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের 'সন্ত্রাসী' হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাকাবি আরও বলেন, সহিংসতাতে জড়িত বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ইসরায়েলের নিজের স্বার্থেই প্রযোজ্য। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে 'অপরাধমূলক আচরণ ও সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই কূটনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর আদেশকে একটি প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এরিয়া এ ও বি: অসলো কাঠামোর ভেতরের জটিলতা
জেরুজালেমে এক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচকে ইয়েনেটের প্রতিবেদন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু 'এরিয়া এ এবং বি'-তে তৈরি করা স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন। এই বিবৃতি একটি গুরুতর রাজনৈতিক সংকেত বহন করে, কারণ ১৯৯০-এর দশকে ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মধ্যে স্বাক্ষরিত অসলো অ্যাকর্ডসের অধীনে পশ্চিম তীরকে তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল — এরিয়া এ, বি এবং সি। এরিয়া এ ও বি-তে অধিকাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক বসবাস করেন। অর্থাৎ, নেতানিয়াহুর আদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের প্রশ্ন তুলে ধরেছে, যা পূর্বে ইসরায়েলি সরকার কখনো সহজেই স্বীকার করেনি।
স্মতরিচ নিজেই একজন দখলদার বসতিস্থাপনকারী। তিনি পশ্চিম তীরে বসতি-নির্মাণের আবাসন প্রকল্প তদারকি করেন এবং অবৈধভাবে নির্মিত কিছু বাসস্থানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ারও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এরিয়া সিতে বসতি সম্প্রসারণে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও বসতি-সমস্যার বড় ছবি
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং বিশ্বের অধিকাংশ সরকার আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। তারা পশ্চিম তীরকে সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসরায়েলের পক্ষপাতিত্বের বিপরীতে, টেল আভিভের দাবি হলো পশ্চিম তীর অধিকৃত নয়, বরং একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড। এই আইনি-রাজনৈতিক বিভাজনই বসতি-সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে।
ইসরায়েলি সংগঠন পিস নাও-এর সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে বর্তমানে মোট ৩৪০টি আউটপোস্ট রয়েছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া বসতির সংখ্যা ১৪৬টি। পিস নাও বসতি-সম্প্রসারণের সমালোচনা করে এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেয়।
হিসাবরহিততার ঘাটতি ও স্থানীয় প্রভাব
গত মাসে পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাসস্থান ঘেরাও করে রেখেছিল। ওই বাসস্থানগুলোর একটি ছিল একজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিকের মালিকানাধীন। পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বসতিস্থাপনকারীদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। তবে গ্রামের ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের পরেও তারা বসতিস্থাপনকারীদের হুমকি ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
ইসরায়েলি সরকার বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার ন
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is পশ চ ম ত র অনন ম?পশ চ ম ত র অনন ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does পশ চ ম ত র অনন ম matter?পশ চ ম ত র অনন ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.