‘নাকবা’ থেকে আজও মুক্তি মেলেনি ফিলিস্তিনিদের
ন কব থ ক আজও ম ক – শুক্রবার (১৫ মে) ফিলিস্তিনিরা ঐতিহাসিক নাকবা দিবস পালন করেছেন। এই দিবস স্মরণ করে দেয় যে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে তাদের ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত ও উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এটি মাত্র একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং বর্তমানে চলমান একটি মানবিক সংকটের প্রতিশোধ হিসেবে স্মরণ করা হয়।
নাকবা ঘটনার প্রায় আট দশক পরও ফিলিস্তিনিদের সামনে বাস্তুচ্যুতি, দখল এবং সহিংসতার প্রতিক্রিয়া আসেনি। গাজায় ইসরায়েলি হামলার কারণে ব্যাপক ধ্বংস ঘটেছে এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ভয়ভীতি অভিযোগ উঠেছে। নাকবা দিবসের সময় জাতিসংঘ সেই ঘটনাকে স্মরণ করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের কথা ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে এসব ঘটনা নাকবার সময়কার ধারাবাহিকতার পুনরাবৃত্তি। তখন ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে সরিয়ে দিয়ে ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছিল। বর্তমানে কিছু ইসরায়েলি মন্ত্রী প্রকাশ্যে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া করতে বলছেন।
সম্প্রতি জেনিন এলাকার একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের স্বজনের সদ্য দাফন করা মরদেহ কবর থেকে তুলে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কাছাকাছি একটি ইসরায়েলি আউটপোস্টের বাসিন্দারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এসব ঘটনা ১৯৪৮ সালের নাকবার সময়কার পরিস্থিতিরই পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রধান সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-কেও চাপে রাখা হচ্ছে। ইসরায়েল সংস্থাটির কার্যক্রম সীমিত করেছে এবং পূর্ব জেরুজালেমে এর স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তবে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের প্রতি সমালোচনা রয়েছে। দুর্নীতি, বিভক্তি ও কার্যকর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কিছু দেশ মানবিক সহায়তা পাঠালেও পর্যবেক্ষকদের মতে এটি ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দখল ও সহিংসতার প্রতি আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে।
