Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

দুই আয়ারল্যান্ড একীভূত হওয়া হবে ‘দারুণ ব্যাপার’, বিতর্ক উসকে দিলেন ট্রাম্প

Published September 13, 2026 · Updated September 13, 2026 · By Joseph Lopez - banglajibon.com

Foto : Joseph Lopez - banglajibon.com

আয়ারল্যান্ড একীভূত হওয়া নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

Banglajibon.com – দ ই আয় রল য ন ড - ডাবলিন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ড দ্বীপের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সংবেদনশীল বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। তাঁর ভাষায়, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হয়ে গেলে তা হবে “খুবই দারুণ” একটি ঘটনা।

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের পাশে বসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো জটিলতা সৃষ্টি করতে চান না। তবু তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান স্পষ্ট করে দেন তিনি।

“আমি কোনো সমস্যা তৈরি করতে চাই না। তবে আমি আপনাদের বলব, আমি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাই।”

ট্রাম্পের মতে, শেষ পর্যন্ত এমন একীকরণ ঘটতে পারে এবং সেটি ইতিবাচক হবে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যেরও মতামত ও ভূমিকা থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

“শেষ পর্যন্ত এটি ঘটবে...আমার মনে হয়, এটি একটি দারুণ ব্যাপার হবে।”

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের বলার কিছু অবশ্যই থাকবে, কিন্তু তাঁর দৃষ্টিতে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড “চমৎকার” ব্যাপার হতে পারে। ট্রাম্পের এমন অবস্থান লন্ডনের রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি তৈরি করেছে, কারণ উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক প্রশ্নটি যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি।

গণভোটের প্রশ্নে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম কয়েক সপ্তাহ আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে গণভোট আয়োজনের প্রশ্নটি এখন আলোচনায় নেই। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তাঁর দপ্তরের এক মুখপাত্রও জানান, এই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

গত বুধবার উত্তর আয়ারল্যান্ডে সম্ভাব্য গণভোট নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে বার্নহাম বলেন, নতুন ভোটের পক্ষে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে—এমন কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। পরিস্থিতি বদল না হলে গণভোটও হবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

“আরেকটি গণভোটের পক্ষে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে, এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। আর যতক্ষণ পর্যন্ত সেটি পরিবর্তন না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণভোট হবে না।”

১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি, যা বেলফাস্ট চুক্তি নামেও পরিচিত, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কাঠামো ঠিক করে দেয়। ওই চুক্তি অনুসারে উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ থাকবে কি না, সে বিষয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতে রয়েছে। অর্থাৎ বাইরের কোনো রাষ্ট্রনেতার মতামত রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে পারে না।

অতীত সংঘাতের ছায়া

গুড ফ্রাইডে চুক্তির আগে প্রায় তিন দশক ধরে উত্তর আয়ারল্যান্ডে চলা সহিংস সময়কে ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে ডাকা হয়। সেই সংঘাতে একদিকে ছিল ক্যাথলিক জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা একটি একীভূত আয়ারল্যান্ড চেয়েছিল। অন্যদিকে প্রধানত প্রোটেস্ট্যান্ট ইউনিয়নপন্থী গোষ্ঠীগুলো উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের ভেতরেই রাখতে চেয়েছিল। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল।

চুক্তিটি সহিংসতা কমিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করলেও পরিচয়, সীমান্ত এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি। তাই আয়ারল্যান্ডের একীকরণ নিয়ে যে কোনো উচ্চপর্যায়ের মন্তব্য দ্রুতই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ইউনিয়নপন্থী দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির নেতা গ্যাভিন রবিনসন ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল সেখানকার মানুষের। তাঁর বক্তব্যে ছিল নির্বাচনী সিদ্ধান্তের গুরুত্বের ওপর জোর।

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্যদের চেয়ে ভালোভাবেই জানেন যে নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ ঠিক করবেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের জনগণ। লন্ডন, ডাবলিন কিংবা ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্যের ভিত্তিতে এটি নির্ধারিত হবে না।”

জনমত জরিপে এখনো দেখা যায়, উত্তর আয়ারল্যান্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্যের সঙ্গেই থাকতে চান। যদিও সময়ের সঙ্গে ব্যবধান কিছুটা কমেছে। যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পর একীকরণের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। সীমান্ত, বাণিজ্য ও পরিচয়ের প্রশ্নে ব্রেক্সিট নতুন বাস্তবতা তৈরি করায় এই বিতর্ক আবারও জোরালো হয়েছে।

কনলির সঙ্গে সাক্ষাৎ, রাস্তায় প্রতিবাদ

সফরে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। কনলি গত বছর রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে ট্রাম্প সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আয়ারল্যান্ডে গেলে, তখন পশ্চিম আয়ারল্যান্ডের শ্যানন বিমানবন্দরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন কনলি। তিনি বামপন্থী পররাষ্ট্রনীতির অবস্থানের জন্য পরিচিত।

এবারও ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে ডাবলিনে যুদ্ধবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়। পশ্চিম আয়ারল্যান্ডেও পরবর্তী সময়ে সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই অঞ্চলের ডুনবেগে ট্রাম্পের একটি গলফ কোর্স রয়েছে।

কনলির কিছু সমর্থক তাঁকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের নিরপেক্ষতার নীতি রক্ষার দাবিও ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আতিথ্য দিতে যে বিপুল ব্যয় হচ্ছে, তা স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক খাতের মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যয় করা যেত। নিরাপত্তা ব্যবস্থার খরচও তাদের আপত্তির অন্যতম কারণ।

ডাবলিনে উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকেই ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই ক্ষোভের কারণেই ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে প্রতিবাদের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ট্রাম্পের মন্তব্য আপাতত কোনো আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। কিন্তু উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক নেতাদের বক্তব্য যে দ্রুত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, ডাবলিন সফরের ঘটনাপ্রবাহ আবারও সেটি স্পষ্ট করল।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is দ ই আয় রল য ন ড?

দ ই আয় রল য ন ড is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does দ ই আয় রল য ন ড matter?

দ ই আয় রল য ন ড matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.