Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

তারেক রহমানের সফর নিয়ে মরিয়া ভারত, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আয়োজনের চেষ্টা

Published Agustus 14, 2026 · Updated Agustus 14, 2026 · By Richard Smith - banglajibon.com

Foto : Richard Smith - banglajibon.com

সেপ্টেম্বরে তারেক রহমানের ভারত সফর: কূটনৈতিক নতুন অধ্যায়

Banglajibon.com – ত র ক রহম ন র সফর - ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মোড় ফিরেছে। তারেক রহমানের সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা তীব্র হচ্ছে। নতুন দিল্লি ঢাকার সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এই সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এই সফর গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, জ্বালানি চুক্তি এবং বাণিজ্য বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পথ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের উদ্যোগ ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি

ভারতীয় কর্মকর্তারা সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে। ঢাকার সূত্রগুলো দুই দেশের মধ্যে চলমান যোগাযোগে সন্তোষ প্রকাশ করলেও সতর্ক করে বলেছে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা নতুন উদ্যোগগুলোর ওপর ছায়া ফেলতে পারে। বছরের বাকি চার মাসে কূটনৈতিক সুযোগের জানালা শিগগিরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সূত্রগুলো উল্লেখ করেছেন।

সাক্ষাৎ ও প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই নতুন পর্যায়ের যোগাযোগ শুরু হয় গত সোমবার, ১০ আগস্ট। ওই দিন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে, ৫ আগস্ট নতুন দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনুষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর এক দিন আগে, ৯ আগস্ট, বাংলাদেশ ভারতের একটি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানায়। ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভারত সরকারের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈন।

বাংলাদেশের কড়া বার্তার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের নিয়মতান্ত্রিকভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে ওই অনুষ্ঠানে যে মন্তব্য করা হয়েছে, ভারত তা সমর্থন করে না।

দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরও স্পষ্ট করে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি ভারত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছিল। গত ১০ আগস্ট ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমানও এই দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরপর ত্রিবেদী নতুন দিল্লি গিয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন।

দ্য হিন্দু জানতে পেরেছে, ভারতীয় পক্ষ তারেক রহমান সরকারের কাছে বার্তা দিয়েছে যে সম্ভব হলে চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই একটি আগাম দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজন করা হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পূর্ণ স্বাভাবিকীকরণের পথ তৈরি হবে। এর আওতায় থাকবে পানি-সম্পর্কিত বিষয়, জ্বালানি চুক্তি, ভিসা সুবিধা এবং ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশের বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার।

তারেক রহমান সরকারকে আরও জানানো হয়েছে, আপনারা যদি হাসিনা ইস্যু নিয়ে আটকে থাকেন, তাহলে সুযোগ হাতছাড়া করবেন। সূত্রগুলো মনে করছেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের চেয়ে তারেক রহমানের একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ বেশি। কারণ, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয় এবং সে কারণে সদস্য দেশগুলোর নেতাদের মূল গোলটেবিল বৈঠকে তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো সতর্ক করেছে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সদস্যরা চলতি মাসের শেষ নাগাদ দিল্লিতে আরেকটি সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। সূত্রগুলোর মতে, এমন কোনো আয়োজন দুই দেশের আলোচনায় তৈরি হওয়া ইতিবাচক ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার ভারতের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে শীতলতা বিরাজ করছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ পানিবণ্টন ও কৌশলগত বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে ভারতের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি আলোচনা করেনি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন: তারেক রহমানের ভারত সফর কখন হতে পারে? উত্তর: সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এই সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

প্রশ্ন: এই সফরে কী কী বিষয় আলোচিত হবে? উত্তর: গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, জ্বালানি চুক্তি, ভিসা সুবিধা এবং ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশের বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার।

প্রশ্ন: ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কতটুকু? উত্তর: বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয় এবং সে কারণে সদস্য দেশগুলোর নেতাদের মূল গোলটেবিল বৈঠকে তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম।

প্রশ্ন: শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে? উত্তর: শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা নতুন উদ্যোগগুলোর ওপর ছায়া ফেলতে পারে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ দিল্লিতে আরেকটি সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ত র ক রহম ন র সফর?

ত র ক রহম ন র সফর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ত র ক রহম ন র সফর matter?

ত র ক রহম ন র সফর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.