Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

গাজায় প্রতি রাতে ৩০–৪০ জনকে হত্যা করা উচিত: ইসরায়েলি মন্ত্রী

Published Agustus 17, 2026 · Updated Agustus 17, 2026 · By Matthew Wilson - banglajibon.com

Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com

গাজায় প্রতি রাতে ৩০–৪০ জনকে হত্যা করা উচিত: ইসরায়েলি মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য

পডকাস্টে ফোঁটা পড়ল হত্যার আহ্বান

Banglajibon.com – গ জ য় প রত র ত - ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে একটি পডকাস্টের অংশ, যেখানে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সাবেক বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতি রাতে অন্তত '৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা' করার দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, শুধু 'ওই নির্দিষ্ট মুহূর্তে যারা হুমকি সৃষ্টি করছে' তাদের মধ্যেই হত্যাকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গত রোববার প্রকাশিত ওই পডকাস্টে বেন-গভিরের এই মন্তব্যগুলো এসেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের নেতৃত্বে হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে আসছে; ঠিক সেই সময়েই ব্রাসলাভস্কি গাজায় বন্দি ছিলেন।

'তারা আদৌ মানুষও নয়'

সেখানে এমন মানুষ আছে, যারা বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়। তারা আদৌ মানুষও নয়।

এই কথার মাধ্যমে বেন-গভির গাজার ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড চালানোর সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই ধরনের বক্তব্য তাঁর দীর্ঘদিনের চরমপন্থী অবস্থানের আরেকটি নমুনা মাত্র।

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে অসম্মতি

ব্রাসলাভস্কিকে বেন-গভির জানিয়েছেন, গাজায় চলমান 'যুদ্ধবিরতি'র আওতায় সামরিক হামলা কমিটি আনার প্রধানমন্ত্রী বেনিামিন নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন। তার বদলে তিনি আবার লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড শুরু করার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, যা শুধু সক্রিয় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপর বেন-গভিরের আনুষ্ঠানিক কোনো কর্তৃত্ব নেই; তিনি নিজে সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন না। তবে তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য, যেখানে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা যুদ্ধ ও নিরাপত্তানীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আগামী নির্বাচনের পটভূমি

বেন-গভির নেতানিয়াহুর জোট সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ইসরায়েলের পুলিশ ও কারা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিকে এগোতে থাকা ইসরায়েলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়ছে।

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ব্যক্তিগত অনুরোধ

আলাপচারিতায় ব্রাসলাভস্কি ইসরায়েলে সম্প্রতি প্রণীত মৃত্যুদণ্ড আইনের আওতায় ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে বেন-গভিরকে ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন। ওই আইনের আওতায় ইসরায়েলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

আমার একটি ব্যক্তিগত অনুরোধ আছে। আমি সত্যিই আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে বলছি, মন্ত্রী। আমাকে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানোর দায়িত্ব দিন।

আমি দড়ি চাই না; আমি একটি বন্দুকের ট্রিগার চাই। নিজের হাতে আমি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিটি সন্ত্রাসীকে মৃত্যুদণ্ড দেব।

এর জবাবে বেন-গভির বলেছেন:

এটা বাস্তবায়ন করতে আমি পুরো পৃথিবী ওলটপালট করে দেব। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এটা না হওয়া পর্যন্ত আমি সবকিছু করব এবং পুরো পৃথিবী ওলটপালট করে দেব।

'পুরো গাজাই আমাদের'

আলোচনায় বেন-গভির ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে স্থায়ীভাবে চলে যেতে উৎসাহিত করার পক্ষেও কথা বলেছেন এবং গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রাসলাভস্কিকে তিনি বলেছেন:

পুরো গাজাই আমাদের।

এমন মন্তব্য তিনি অতীতেও বহুবার করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ব্যাপক, জোরপূর্বক বা পরিকল্পিতভাবে মানুষকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করার উদ্যোগ জাতিগত নিধন বা এথনিক ক্লিনজিং হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

যুদ্ধবিরতির পরও চলছে হামলা

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের 'যুদ্ধবিরতি' কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

দশকের পর দশকের চরমপন্থী ধারা

বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্য তার কয়েক দশকের চরমপন্থী অবস্থানের ধারাবাহিকতা। কৈশোরে তিনি নিষিদ্ধ জাতীয়তাবাদী কাহানিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডকে নিয়মিত শাস্তি হিসেবে চালুর পক্ষে জোরালোভাবে প্রচার চালিয়েছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বন্দিদের আটক রাখা ইসরায়েলি কারাগারগুলোর পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে আরও কঠোর ও খারাপ করার কথাও তিনি প্রকাশ্যে গর্বের সঙ্গে বলেছেন।

তাঁর এই কর্মকাণ্ড ও অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা তার কর্মকাণ্ডে কোনো গুরুতর প্রভাব ফেলেনি।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is গ জ য় প রত র ত?

গ জ য় প রত র ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does গ জ য় প রত র ত matter?

গ জ য় প রত র ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.