Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

জুয়ায় দিনে ৩০ নতুন সাইট

Published Agustus 16, 2026 · Updated Agustus 16, 2026 · By James Anderson - banglajibon.com

Foto : James Anderson - banglajibon.com

জুয়ায় দিনে ৩০ নতুন সাইট: অনলাইন জুয়ার বিস্তার ও চ্যালেঞ্জ

Banglajibon.com – জ য য় দ ন ৩০ নত - জুয়ায় দিনে ৩০ নতুন সাইট খোলা হচ্ছে—এটি বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার দ্রুত বিস্তারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ বন্ধ হলেও কিছুদিন পরই একই ধরনের নতুন সাইট হাজির হয়। এইভাবে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি জুয়ার সাইট নতুন করে চালু হচ্ছে। প্রযুক্তির এই ফাঁক গলে দেশে ক্রমেই অনলাইন জুয়া বিস্তৃত হচ্ছে।

পুলিশের হিসাব বলছে, বর্তমানে দেশে ৫৮৬টি জুয়ার সাইট সক্রিয়। এসব ওয়েবসাইটে অবৈধ লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে ৩ হাজার ৮৬৪টি মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট। এতে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। অনলাইন জুয়ার লেনদেন হওয়া টাকার বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার ও মামলার বিবরণ

গত ৬ মে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারজনকে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ মে নরসিংদী ও ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে একটি মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, মো. কামরুজ্জামান ও আবদুর রহমান। ওই মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে আসছিল চক্রটি।

বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্ক ও অর্থ পাচার

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইন্টেলিজেন্স ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট জানিয়েছে, ওই চক্র চারটি ওয়েবসাইট খুলে জুয়া শুরু করেছিল। এসব ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার একটি চক্রের হাতে ছিল। তারা প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পাচার করেছে। পাচার হওয়া অর্থ সিআইডি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরত আনার কাজ চলছে।

চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্ত করা হয়েছে। চক্রের নিয়ন্ত্রণ বিদেশে থাকলেও দেশে তাদের এজেন্ট, সাব-এজেন্ট এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজস্ব লোক রয়েছে; যারা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে সেগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে পাচার করত।

এজেন্ট ও লেনদেনের রহস্য

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, গত ১ মে থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রায় ৫৮৬টি অনলাইন জুয়ার সাইট সক্রিয় রয়েছে। এসব সাইটে জুয়ার লেনদেনে ৩ হাজার ৮৬৪টি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ও ১৯৮টি ব্যাংক হিসাব ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অসংখ্য এজেন্ট নম্বর রয়েছে।

গত ৮ জুন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকে মোস্তাক মিঞা নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিকাশ ও নগদ এজেন্ট ব্যবসা রয়েছে। তবে এই ব্যবসার আড়ালে ১০ থেকে ১১টি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটের টাকা তাঁর ওই নম্বরে লেনদেন হতো। ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, একেকটি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে ৩০ হাজার থেকে ৫/১০ লাখ টাকা লেনদেন করে চক্রটি। এজেন্ট নম্বরগুলোতে কখনো কখনো এর বেশি লেনদেন হয়। সেই হিসাবে সিআইডির পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে সক্রিয় ৩ হাজার ৮৬৪টি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনিক সারা দেশে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন হয়।

বিটিআরসির ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ

জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোর বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করা হয় রাশিয়া, চীন, হংকং, ভিয়েতনাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। সিআইডির সিপিসি ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাইফউদ্দীন শাহীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমাদের সাইবার প্যাট্রোল টিম নিয়মিত এসব জুয়ার সাইট মনিটরিং করে। তারা দৈনিক যেসব জুয়ার সাইট পায়, সেগুলো বন্ধ করতে আমরা নিয়মিত বিটিআরসিকে তথ্য ও তালিকা দিই। ৫৮৬টি ওয়েবসাইট বন্ধ করতেও তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংককে মোবাইল ব্যাংকিংগুলোর বিষয়েও তথ্য দেওয়া হয়েছে।'

৫ বছরে ৫১০৯ ওয়েবসাইট, ৪৫০ অ্যাপ বন্ধ করেছে বিটিআরসি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস বন্ধে তালিকার সুপারিশ পাওয়ার পর সেগুলো বন্ধ করে বিটিআরসি। সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার ১০৯টি জুয়ার ওয়েবসাইট এবং ৪৫০টি অ্যাপ বন্ধ করেছে তারা।

কেন পুরোপুরি বন্ধ হয় না তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, একজন ব্যবহারকারী প্রথমে কোনো জুয়ার সাইট বা অ্যাপে ঢুকে মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করেন। এরপর নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস নিয়মিত বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) তালিকা দেওয়া হয়। তারা বন্ধও করে, তবে জুয়ারিরা নতুন সাইট খুলে আবার শুরু করে। তাই অনলাইন জুয়া একেবারে বন্ধ করা যাচ্ছে না। কারণ, সাইট ও অ্যাপের অনেকগুলোর নিয়ন্ত্রণ দেশের বাইরে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: বাংলাদেশে বর্তমানে কতটি অনলাইন জুয়ার সাইট সক্রিয়? উত্তর: পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৫৮৬টি অনলাইন জুয়ার সাইট সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি নতুন সাইট খোলা হচ্ছে।

প্রশ্ন: অনলাইন জুয়ার লেনদেনে কত টাকা জড়িত? উত্তর: ৩ হাজার ৮৬৪টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

প্রশ্ন: বিটিআরসি কতটি ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে? উত্তর: ৫ বছরে বিটিআরসি ৫১০৯টি ওয়েবসাইট এবং ৪৫০টি অ্যাপ বন্ধ করেছে। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত এই সংখ্যাগুলো পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন: অনলাইন জুয়ার অর্থ কোথায় পাচার হয়? উত্তর: জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোর বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ রাশিয়া, চীন, হংকং, ভিয়েতনাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে করা হয়। চক্রটি প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পাচার করেছে বলে জানা গেছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is জ য য় দ ন ৩০ নত?

জ য য় দ ন ৩০ নত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ য য় দ ন ৩০ নত matter?

জ য য় দ ন ৩০ নত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.