Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সংকটে সরকারি-বেসরকারি ১৫ ব্যাংক: খেলাপির চাপে নড়বড়ে ব্যাংকের সুরক্ষা

Published September 11, 2026 · Updated September 11, 2026 · By Michael Williams - banglajibon.com

Foto : Michael Williams - banglajibon.com

খেলাপি ঋণের চাপে ১৫ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ২ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা

Banglajibon.com – স কট সরক র ব সরক র - দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বিস্তার এখন শুধু ঋণ আদায়ের সমস্যা নয়; এটি ব্যাংকগুলোর আয়, মূলধন, ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা এবং নতুন ঋণ বিতরণের সামর্থ্যকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংক প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে না পারায় তাদের আর্থিক ভিত্তি আরও চাপের মুখে পড়েছে।

চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৫টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা কমে গেলে আমানত সংগ্রহ, নতুন ঋণ অনুমোদন এবং দৈনন্দিন আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে সমস্যাটি কেবল হিসাবের খাতায় সীমিত নেই; ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রমেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে

জুন শেষে দেশের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এত বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ব্যাংকের আয় কমিয়ে দেয়, কারণ যেসব ঋণ থেকে সুদ পাওয়ার কথা ছিল, তার বড় অংশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একই সময়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে বাড়তি প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়।

প্রভিশন হলো সম্ভাব্য ঋণক্ষতির বিপরীতে ব্যাংকের আগাম সুরক্ষা তহবিল। কোনো ঋণ আদায় না হলে যাতে হঠাৎ বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা না লাগে, সে জন্য ব্যাংককে আয় থেকে নির্দিষ্ট অর্থ আলাদা করে রাখতে হয়। কিন্তু আয় কমে গেলে এই তহবিল গঠন কঠিন হয়ে ওঠে। সেই পরিস্থিতিতেই এখন বেশ কয়েকটি ব্যাংক রয়েছে।

ঋণের মান অনুযায়ী প্রভিশনের হার নির্ধারিত হয়। নিয়মিত ঋণের ক্ষেত্রে দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সঞ্চিতি রাখতে হয়। সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের জন্য ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের ক্ষেত্রে পুরো ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ একটি ঋণ চূড়ান্তভাবে মন্দ শ্রেণিতে গেলে তার সমপরিমাণ অর্থ নিরাপত্তা হিসেবে রাখতে হয়।

সরকারি ব্যাংকে ঘাটতির চিত্র

পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি মিলিয়ে ৭৮ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, ৫০ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি ১২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংকের ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঘাটতির পরিমাণ ৫ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঘাটতি তুলনামূলক কম হলেও তা প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংকগুলোর এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতা সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আস্থা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

বেসরকারি খাতেও বড় চাপ

বেসরকারি খাতের ১০টি ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ঘাটতি সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। এরপর ন্যাশনাল ব্যাংকের ঘাটতি ২৩ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা এবং আইএফআইসি ব্যাংকের ২১ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১১ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। ইউনিয়ন ব্যাংকের ৫ হাজার ৫ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ২ হাজার ৫৯৫ কোটি এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঘাটতি ৬৪৫ কোটি টাকা। এনআরবিসি ব্যাংকের ৮২০ কোটি এবং এনআরবি ব্যাংকের ১৩০ কোটি টাকা প্রভিশন কম রয়েছে।

খেলাপি ঋণ বাড়লে ব্যাংকের মুনাফা দেখানোর সুযোগও সংকুচিত হয়। প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক মুনাফা ঘোষণা করতে পারে না। তাই প্রভিশন ঘাটতি শুধু একটি আর্থিক সূচক নয়; এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ভবিষ্যৎ আয়, শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা এবং মূলধন পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

মূলধন ঘাটতির ঝুঁকি

প্রভিশন রাখতে না পারা ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে মূলধন ঘাটতিতে পড়তে পারে। কারণ সম্ভাব্য লোকসানের জন্য যথেষ্ট সুরক্ষা না থাকলে ক্ষতি একসময় ব্যাংকের নিজস্ব মূলধনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এতে নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের ঋণ পুনরুদ্ধারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

বিগত সরকারের সময়ে নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ করায় কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণও বেড়েছে। কিন্তু আয় না থাকায় তারা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারেনি। নিয়ম অনুযায়ী, তারা মুনাফাও ঘোষণা করতে পারবে না।

জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরীর এই মন্তব্যে খেলাপি ঋণ সংকটের একটি বড় দিক উঠে এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিতরণ হওয়া ঋণের বড় অংশ ফেরত না আসায় সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের ব্যাংকই চাপে পড়েছে।

সামগ্রিক খাতে সঞ্চিতির হিসাব

পুরো ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো সংরক্ষণ করেছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। সমস্যাগ্রস্ত ১৫ ব্যাংকের ঘাটতি ২ লাখ ২৯ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা হলেও কিছু ব্যাংক নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে বেশি প্রভিশন রাখতে পেরেছে।

সে কারণে সমগ্র ব্যাংকিং খাতের হিসাবে প্রভিশন ঘাটতি কিছুটা কমে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে অতিরিক্ত প্রভিশন রাখা কিছু ব্যাংকের সক্ষমতা দুর্বল ব্যাংকগুলোর পৃথক আর্থিক সংকট দূর করে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়, খেলাপি ঋণের মান এবং মূলধন অবস্থাই শেষ পর্যন্ত তাদের ঝুঁকি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নির্ধারণ করবে।

ব্যাংক খাতের এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। প্রভিশন ঘাটতি কমানো ছাড়া ব্যাংকগুলোর আর্থিক সুরক্ষা দৃঢ় করা কঠিন হবে, আর তা না হলে আমানতকারী, ঋণগ্রহীতা ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স কট সরক র ব সরক র?

স কট সরক র ব সরক র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স কট সরক র ব সরক র matter?

স কট সরক র ব সরক র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.